গুগলকে রিপোর্ট পাঠানোর কারণ ব্যাখ্যা অন্তর্বর্তী সরকারের

অন্তর্বর্তী সরকার সম্প্রতি গুগলকে কন্টেন্ট সরানোর অনুরোধ সংক্রান্ত খবরের পরিপ্রেক্ষিতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে। সরকার স্পষ্ট করেছে, দেশের সংবাদপত্র, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট, ভিডিও কনটেন্ট, অনলাইনে প্রকাশিত আর্টিকেল বা অভ্যন্তরীণ সমালোচনামূলক রাজনৈতিক বিষয়ের জন্য কোনো অনুরোধ করা হয়নি। শুধুমাত্র মিসইনফরমেশন, প্রোপাগান্ডা বা বেআইনি মানহানিকর তথ্যের ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এবং জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মকে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।

গুগলের ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট বিশ্লেষণ অনুযায়ী জানুয়ারি-জুন ২০২৫ সময়ে বাংলাদেশ থেকে মোট ২৭৯টি অপসারণ অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। এটি আগের আওয়ামী লীগ সরকারের একই সময়কালের (৮৬৭টি) তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এছাড়া, ৬৫ শতাংশ অনুরোধ ‘Not enough information’ ক্যাটাগরিতে পড়ে, যা দেখায় এগুলোর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না।

সারাদেশে সামাজিক অস্থিতিশীলতা, প্রতিবেশী দেশ থেকে প্রচারিত মিসইনফরমেশন এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে সরকারকে এসব রিপোর্ট পাঠাতে হয়েছে। বিশেষ করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের কারণে অনলাইনে সুনির্দিষ্ট প্রচারণা চালানো হচ্ছিল।

সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বাংলাদেশে কোনো সংস্থা বা এজেন্সির সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্ট সরানোর সরাসরি ক্ষমতা নেই। সাইবার নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক রিপোর্ট যেমন ফ্রিডম হাউস ও বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের ইন্টারনেট স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতায় অগ্রগতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। Freedom on the Net 2025 রিপোর্টে বাংলাদেশের স্কোর সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পৌঁছেছে, যা দেশের ডিজিটাল পরিবেশের উন্নয়ন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমের ইতিবাচক প্রভাবকে প্রতিফলিত করে।