কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ভাঙচুর ও পরবর্তীতে গুঁড়িয়ে দেওয়া কার্যালয় ঘিরে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। দেড় বছর আগে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ওই কার্যালয়ের সামনে সম্প্রতি জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কার্যালয়ের সামনে ছাত্রলীগ নেতা কামরুল ইসলাম (রতন)-এর নেতৃত্বে কয়েকজন নেতা-কর্মী জড়ো হন। সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সম্বলিত একটি ব্যানার টানানো হয়। ব্যানারে লেখা ছিল—“বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ ছিল, আছে এবং থাকবে।” ব্যানারের নিচে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের মেজ ছেলে রাসেল আহমেদের নামও উল্লেখ করা হয়, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভিডিওতে অংশগ্রহণকারীদের ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে শোনা যায়। পাশাপাশি ‘মুজিব তোমার স্মরণে, ভয় করি না মরণে’ এবং ‘কিশোরগঞ্জের মাটি, তুহিন ভাইয়ের ঘাঁটি’—এ ধরনের স্লোগানও উচ্চারিত হয়। এ সময় কয়েকজনকে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করতে দেখা যায়, যা রাজনৈতিক প্রতীকী শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার এস এম ফরহাদ হোসেন জানান, ঘটনাটি তাঁর জানা ছিল না; তবে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তবে স্থানীয়ভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় এবং পরদিন ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর কিশোরগঞ্জে আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। পরবর্তীতে একই বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি পরিত্যক্ত ওই ভবনে আবারও আগুন দেওয়া হয় এবং বুলডোজার দিয়ে সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে ফেলা হয়। এমনকি ভবনের একটি ভাঙা দেয়ালে ‘পাবলিক টয়লেট’ লিখে দেওয়া হয়, যা তৎকালীন ক্ষোভের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছিল।
নিম্নে ঘটনাপ্রবাহের একটি সংক্ষিপ্ত সময়রেখা উপস্থাপন করা হলো—
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ৪–৫ আগস্ট ২০২৪ | আন্দোলন ও সরকার পতনের প্রেক্ষিতে কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ |
| ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | পরিত্যক্ত ভবনে পুনরায় আগুন ও বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া |
| সাম্প্রতিক (২০২৬) | ধ্বংসস্তূপে পতাকা উত্তোলন ও স্লোগান; ভিডিও ভাইরাল |
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা কেবল একটি প্রতীকী উপস্থিতি নয়; বরং এটি স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার ও সমর্থন পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা যেতে পারে। একই সঙ্গে এটি এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি রাজনৈতিক কার্যালয়কে কেন্দ্র করে এমন কার্যক্রম ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার বিষয়। স্থানীয় প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিও পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
