গাজীপুরে ঝুট গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ি থানাধীন দেওয়ালিয়াবাড়ি এলাকায় একাধিক ঝুট গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে কাঁঠালতলা এলাকায় অবস্থিত একটি ঝুট গোডাউনে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই দাহ্য পদার্থে ভরা ঝুটের কারণে আগুন দ্রুত পাশের আরও কয়েকটি গোডাউনে ছড়িয়ে পড়ে, যা পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গোডাউন এলাকা থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখে স্থানীয়রা প্রথমে বিষয়টি আঁচ করতে পারেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। ঝুট অত্যন্ত দাহ্য হওয়ায় আগুনের তীব্রতা দ্রুত বেড়ে যায় এবং আশপাশের স্থাপনা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য তা হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে যোগাযোগ করলে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রাথমিকভাবে কোনাবাড়ি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। তবে আগুনের ব্যাপকতা ও বিস্তৃতি বিবেচনায় পরে সারাবো ও ডিবিএল ফায়ার স্টেশন থেকে আরও চারটি ইউনিট যুক্ত হয়। মোট ছয়টি ইউনিট সম্মিলিতভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা পানি ছিটানোর পাশাপাশি আগুনের বিস্তার ঠেকাতে আশপাশের এলাকা সুরক্ষিত করার উদ্যোগ নেন।

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মামুন জানান, “একাধিক ঝুট গোডাউনে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে ছয়টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।” তিনি আরও বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, যা কিছুটা স্বস্তির বিষয়।

ঝুট গোডাউনগুলোতে সাধারণত গার্মেন্টস শিল্পের বর্জ্য কাপড় ও সুতা সংরক্ষণ করা হয়, যা অত্যন্ত দাহ্য। ফলে এ ধরনের স্থাপনায় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, শিল্পাঞ্চল ঘন এলাকায় এভাবে ঝুট সংরক্ষণ জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

ঘটনার প্রাথমিক সময়রেখা নিচের টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:

সময়ঘটনা
বিকেল ৪:১৫প্রথম গোডাউনে আগুনের সূত্রপাত
বিকেল ৪:২৫স্থানীয়দের মাধ্যমে আগুন শনাক্ত
বিকেল ৪:৩৫কোনাবাড়ি ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট পৌঁছায়
বিকেল ৪:৫০সারাবো ও ডিবিএল স্টেশনের আরও ৪টি ইউনিট যোগ দেয়
চলমানআগুন নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ

বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এলে তদন্ত কমিটি গঠন করে কারণ নির্ণয় ও ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।