গাজা সংকট সমাধানে প্রকাশ্যে এলো নতুন চুক্তি! কী ঘটতে চলেছে দ্বিতীয় ধাপে?

ইসরায়েল–গাজা সংঘাতের টানাপোড়েনের মধ্যেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তিপরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ খুব শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রস্তাবিত সমাধানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এখনো উভয় পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত হয়নি। তা সত্ত্বেও আলোচনার অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত শান্তিপরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে ইসরায়েলকে গাজা থেকে আরও সেনা প্রত্যাহার এবং একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠনের কথা বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের মাধ্যমে এলাকাটির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা হবে। বিনিময়ে হামাসকে অস্ত্র ত্যাগ এবং সংগঠনের কাঠামো পুনর্গঠনের ধাপ শুরু করতে হবে। অর্থাৎ এই ধাপটি মূলত নিরাপত্তা, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক সংস্কারের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।

সোমবার ইসরায়েলি সরকারের মুখপাত্র জানায়, ২৯ ডিসেম্বর নেতানিয়াহু ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে দ্বিতীয় ধাপের বাস্তবায়ন কৌশল এবং সংবেদনশীল রাজনৈতিক ইস্যুগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। নেতানিয়াহু নিজেও সাংবাদিকদের কাছে বলেন, চলতি মাসের শেষেই তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে এ বিষয়ে “গুরুত্বপূর্ণ ও সিদ্ধান্তমূলক” আলোচনা করবেন।

ইউরোপীয় দেশগুলোর ভূমিকাও এ পর্যায়ে বিশেষভাবে নজরে এসেছে। জেরুজালেমে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের সঙ্গে বৈঠকের পর নেতানিয়াহু বলেন, গাজায় হামাসের শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটানো এখন সময়ের দাবি। তার মতে, শুধুমাত্র অস্ত্র জমা দিলেই হবে না; হামাসকে সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে। যদিও অন্য এক অনুষ্ঠানে তিনি আন্তর্জাতিক বাহিনীর মাধ্যমে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের ধারণায় সংশয় প্রকাশ করেন। তার বক্তব্য, শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলকেই হামাসকে কার্যকরভাবে নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করতে হবে।

অন্যদিকে হামাস নেতারা কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সংগঠনের শীর্ষ কর্মকর্তা বাসেম নাইম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, তাঁরা অস্ত্র সমর্পণ নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত। যদিও এর আগে হামাস ঘোষণা করেছিল যে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত তারা অস্ত্র ছাড়তে রাজি নয়।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার দুই মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ইসরায়েল ও হামাস উভয়ই পরস্পরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৩৭০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এখনো গাজার অর্ধেকেরও বেশি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ত্রাণ সরবরাহ বাড়লেও নিরাপত্তাহীনতা ও চলাচলসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা এখনো বড় বাধা হয়ে আছে। রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় খোলাকে কেন্দ্র করেও বিভিন্ন মহলের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

এই সমস্ত জটিলতা ও রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্য দিয়েই শান্তিপরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরু হতে যাচ্ছে, যার সফলতা নির্ভর করছে ইসরায়েল–হামাস–আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একসাথে কীভাবে আসন্ন সিদ্ধান্তগুলো কার্যকর করে তার ওপর।