গাজা এখন ‘গণকবরে’: এমএসএফ-এর উদ্বেগ

গাজা ভূখণ্ডে চলমান যুদ্ধ ও মানবিক সহায়তার ওপর কঠোর বিধিনিষেধের কারণে পুরো অঞ্চলটি এখন ‘গণকবরে’ পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ)। বুধবার, এক বিবৃতিতে সংস্থাটি এ অভিযোগ তোলে।

জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি’র পাঠানো খবরে বলা হয়, ইসরাইলের সামরিক অভিযান ও সহায়তা অবরোধে বিপর্যস্ত গাজা উপত্যকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছে।

গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের একটি হামলার পর থেকে ইসরাইল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। কয়েক ধাপের সংঘর্ষ ও একটি দীর্ঘ যুদ্ধবিরতির পর চলতি বছরের মার্চে ফের ইসরাইলি হামলা শুরু হয়। ২ মার্চ থেকে ইসরাইল মানবিক সহায়তা প্রবেশেও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে, যার ফলে লাখ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে।

জাতিসংঘের মতে, গাজায় এখন চরম চিকিৎসা সরঞ্জাম, খাদ্য, পানি, জ্বালানি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে।

এমএসএফ-এর সমন্বয়কারী আমান্দে বাজেরোলে বলেন, “গাজা ফিলিস্তিনি এবং যারা তাদের সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছে, তাদের জন্য এক বিশাল গণকবরে রূপ নিয়েছে।”

তিনি জানান, গত মাসে গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর চালানো এক হামলায় একটি অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়, যেখানে ১৫ জন চিকিৎসক ও উদ্ধারকর্মী নিহত হন। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক পরিসরে ব্যাপক নিন্দা জানানো হয়েছে।

বাজেরোলে আরও বলেন, “আমরা এক ভয়ংকর বাস্তবতার মুখোমুখি— গাজার মানুষের জীবনের চিহ্নগুলো একে একে মুছে যাচ্ছে, এবং যারা তাদের সাহায্য করতে চায়, তারাও নিরাপদ নন।”

“এই মুহূর্তে গাজায় ফিলিস্তিনিদের জন্য বা তাদের সহায়তাকারী সংস্থাগুলোর জন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয় নেই,” তিনি সতর্ক করে বলেন, “মানবিক ত্রাণকর্মীরা নিরাপত্তাহীনতা এবং সরবরাহ ঘাটতির চরম চাপে কাজ করছেন।”