গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান হামলা ও আর্টিলারি শেলিংয়ে তিন শিশুসহ অন্তত ৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। একই ঘটনায় আহত হয়েছে আরও কমপক্ষে ৩১ জন। গাজার প্যালেস্টিনিয়ান সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি জানিয়েছে, বুধবার গাজার বিভিন্ন স্থানে একাধিক হামলা ও গোলাবর্ষণের ফলেই এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহত ও আহতদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।
বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস এলাকায় তাঁবু ও আবাসিক বাড়িতে চালানো হামলার পর তিনটি মরদেহ নাসের হাসপাতালে নেওয়া হয়। একই সময়ে গাজা সিটির বিভিন্ন এলাকায় চালানো পৃথক হামলায় আরও ছয়জন নিহত হন, যাদের মরদেহ আল শিফা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তাদের সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর একটি ঘটনার পর তারা ‘নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালায়। ওই ঘটনায় একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা আহত হন বলে জানানো হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলাগুলো গাজায় কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়া হিসেবেই পরিচালিত হয়েছে। তাদের আরও দাবি, হামলার ঘটনাগুলো গাজার নির্ধারিত এলাকার বাইরে তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর কাছাকাছি অঞ্চলে ঘটেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ অনুযায়ী গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মোট ৫২৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। একই সময়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সংঘর্ষ ও পাল্টা হামলায় তাদের চারজন সেনা নিহত হয়েছে।
বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা আরও জানায়, গত শনিবার একদিনেই ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৩৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন। ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে, হামাসের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব হিসেবেই ওই ব্যাপক হামলা চালানো হয়। তবে ফিলিস্তিনি পক্ষ বলছে, এসব হামলায় সাধারণ মানুষের প্রাণহানি বেড়েই চলেছে এবং মানবিক পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।
এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। গত মঙ্গলবার মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ জেরুজালেমে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে নেতানিয়াহু জোর দিয়ে বলেন, গাজায় পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করার আগে হামাসকে অস্ত্রহীন করতে হবে এবং পুরো গাজা উপত্যকাকে সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করতে হবে। ফিলিস্তিনি বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
নিচে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| সর্বশেষ হামলায় নিহত | ৯ জন (৩ শিশুসহ) |
| সর্বশেষ হামলায় আহত | অন্তত ৩১ জন |
| যুদ্ধবিরতির পর নিহত ফিলিস্তিনি | ৫২৩ জন |
| একই সময়ে নিহত ইসরায়েলি সেনা | ৪ জন |
| একদিনে সর্বোচ্চ নিহত (শনিবার) | কমপক্ষে ৩৭ জন |
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত হামলা ও পাল্টা হামলার কারণে গাজায় স্থিতিশীলতা এখনও অধরাই থেকে গেছে। বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
