গাজা উপত্যকায় ইসরাইল মঙ্গলবার সর্বোচ্চ মাত্রায় বিমান হামলা চালিয়েছে, যা জানুয়ারির যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে ভয়াবহ। উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এই হামলায় ১২১ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। হামাস ইসরাইলকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করেছে।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামাস তাদের জিম্মিদের মুক্তি দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং মধ্যস্থতাকারীদের সকল প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর এই হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়।
একজন ইসরাইলি কর্মকর্তা বলেছেন, এই অভিযান ‘যতদিন প্রয়োজন অব্যাহত থাকবে’ এবং তা শুধু বিমান হামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।
হামাস এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘নেতানিয়াহু ও তার সরকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা গাজার বন্দিদের জন্য অনিশ্চিত পরিস্থিতি তৈরি করছে।’
কাতার, মিশর ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায় কার্যকর হলে ৭ অক্টোবরের হামলার পর চলমান সংঘাত কিছুটা শান্ত হয়। তবে, যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে উভয় পক্ষ একমত হতে পারেনি।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানায়, তারা গাজায় হামাসের ‘সন্ত্রাসী স্থাপনায়’ ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে। গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, ‘বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে’ নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু, নারী ও বয়স্ক ব্যক্তি। আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৫০ জন।
ইসরাইল গাজার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের স্কুলগুলো বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং হামাসের বিরুদ্ধে ‘বর্ধিত সামরিক শক্তি’ ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে।
এদিকে, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, তিনি এমন একটি ‘সেতু প্রস্তাব’ দিয়েছেন যেখানে ইসরাইলি-আমেরিকান নাগরিক এডান আলেকজান্ডারসহ পাঁচজন জীবিত জিম্মির মুক্তির বিনিময়ে ইসরাইলি কারাগার থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে। তবে, হামাস এই প্রস্তাবে ‘অগ্রহণযোগ্য প্রতিক্রিয়া’ দেখিয়েছে বলে উইটকফ মন্তব্য করেছেন।
যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে হামাস আটজনের মৃতদেহসহ ৩৩ জন জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছিল, আর ইসরাইল প্রায় ১,৮০০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে ছেড়ে দেয়। তবে, দ্বিতীয় ধাপের আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন একটি নতুন চুক্তির রূপরেখা প্রস্তাব করেছিলেন, যেখানে অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্তি, গাজা থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহার এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ছিল। তবে, ইসরাইলের শর্ত হলো, গাজাকে ‘সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ’ করতে হবে এবং হামাসকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে।
আলোচনা স্থগিত থাকার মধ্যেই ইসরাইল গাজায় মানবিক সহায়তা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখেছে।
এদিকে, ইসরাইলি বন্দি ওমর শেম টোভ এক ভিডিওবার্তায় বলেছেন, ‘জিম্মিদের পরিস্থিতি এখন কী তা ভাবা আমার পক্ষে কঠিন, কারণ আমি নিজেও সেই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছি। এটি এক ভয়ংকর অনুভূতি এবং যত দ্রুত সম্ভব এর সমাধান হওয়া উচিত।’
উভয় পক্ষের তথ্য অনুসারে, ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ১,২১৮ জন ইসরাইলি নিহত হয়েছিল, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। অন্যদিকে, গাজায় ইসরাইলের প্রতিশোধমূলক হামলায় নিহতের সংখ্যা ৪৮,৫৭২ ছাড়িয়ে গেছে, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক মানুষ।
