গাইবান্ধায় ভবন মেরামতের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কাঠমিস্ত্রির মৃত্যু

গাইবান্ধা জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. আজগর আলী (৪৫) নামের এক অভিজ্ঞ কাঠমিস্ত্রির করুণ মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে শহরের ব্যস্ততম স্টেশন রোডের একটি বাণিজ্যিক ভবনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। আজগর আলীর এই আকস্মিক মৃত্যুতে তার নিজ গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঘটনার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজগর আলী দীর্ঘ দিন ধরে কাঠমিস্ত্রি এবং চাল মেরামতের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। সোমবার তিনি গাইবান্ধা পৌরসভার স্টেশন রোডে অবস্থিত ‘পাল ম্যানশন’ নামক একটি ভবনের ছাদে টিন লাগানোর কাজ করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভবনের খুব কাছ দিয়েই পিডিবির ১১ হাজার কেভি (KV) উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক লাইন চলে গেছে।

কাজ করার এক পর্যায়ে অসাবধানতাবশত একটি টিন বা আজগর আলীর শরীর ওই উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসে। সাথে সাথেই তীব্র মাত্রার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। আশেপাশের লোকজন তাকে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে আসলেও উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুতের কারণে প্রাথমিক অবস্থায় কাছে যাওয়া সম্ভব হয়নি। পরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

নিহতের পরিচয় ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ

নিহত আজগর আলী গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের খোলাবাড়ী গ্রামের খোকা মিস্ত্রির ছেলে। পরিবারে তিনি একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন বলে জানা গেছে। ঘটনার খবর পেয়ে গাইবান্ধা সদর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।

নিচে এই দুর্ঘটনার প্রধান তথ্যগুলো একনজরে তুলে ধরা হলো:

বিষয়তথ্য
নিহতের নামমো. আজগর আলী (৪৫)
পেশাকাঠমিস্ত্রি
পিতার নামখোকা মিস্ত্রি
স্থায়ী ঠিকানাগ্রাম: খোলাবাড়ী, ইউনিয়ন: বল্লমঝাড়, সদর, গাইবান্ধা
ঘটনাস্থলপাল ম্যানশন, স্টেশন রোড, গাইবান্ধা পৌরসভা
দুর্ঘটনার কারণ১১ হাজার কেভি উচ্চ ভোল্টেজ লাইনের সংস্পর্শ
সময় ও তারিখ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (সোমবার)

ভবনের নিরাপত্তা ও ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন

গাইবান্ধা শহরের স্টেশন রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণের ফলে বৈদ্যুতিক লাইনের সাথে ভবনের দূরত্ব আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, হাই ভোল্টেজ তারের মাত্র কয়েক ফুট দূরত্বের মধ্যেই শ্রমিকরা কাজ করেন, যা চরম জীবন সংশয় তৈরি করে। এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয় সচেতন মহলে ভবনের নিরাপত্তা এবং বিদ্যুৎ বিভাগের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই ধরনের অরক্ষিত হাই ভোল্টেজ লাইন অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়া বা ইনসুলেটেড (আবৃত) করা উচিত।

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং পরিবারের কোনো অভিযোগ থাকলে সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। আপাতত ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতির জন্য নিহতের স্বজনরা আবেদন জানিয়েছেন।

পরিশেষে, পেশাগত কাজে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সচেতনতা জরুরি। আজগর আলীর মতো সাধারণ শ্রমজীবীদের এমন অকাল মৃত্যু রোধে ভবন মালিক ও বিদ্যুৎ বিভাগ উভয়কেই আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।