শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে গভীর রাতে হঠাৎ এক মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে আয়োজিত এ মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন তৃণমূল আওয়ামী লীগসহ সংশ্লিষ্ট অঙ্গ-সংগঠন।
মিছিলে বহন করা পোস্টার ও ব্যানারে লেখা ছিল—
“অবৈধ ইউনূস সরকারের ধ্বংসাত্মক জ্বালাও-পোড়াও ও অবৈধ তফসিলের বিরুদ্ধে মশাল মিছিল। আয়োজনে তৃণমূল আওয়ামী লীগ, গোসাইরহাট, শরীয়তপুর।”
মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দ্রুত ভাইরাল হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোসাইরহাট উপজেলায় দীর্ঘদিন দলীয় কার্যক্রম ছিল স্থগিত। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদেশ সফরের পর জেলার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কমে গিয়েছিল। এ সুযোগে রাতের আঁধারে এই মিছিল আয়োজন করা হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশের মুখ ছিল মুখোশ বা কাপড়ে ঢাকা।
মিছিলে প্রদর্শিত পোস্টারে প্রধানভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের ছবি ও নাম দেখা গেছে। এছাড়া মিছিলে ধরা পড়েছে বিভিন্ন স্লোগান, যেমন: “শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে।”
স্থানীয় এক সাবেক ছাত্রদলের নেতা, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, জানান, প্রশাসনের উচিত আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ব্যানার বা পোস্টার ব্যবহারকারীদের গ্রেফতার করা। নতুবা অপ্রত্যাশিত কোনো ঘটনা ঘটলে দায় প্রশাসনের উপর বর্তাবে।
গোসাইরহাট থানার ওসি মো. আজিজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
নিচে মিছিলের মূল তথ্য সংক্ষেপে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অনুষ্ঠানকারীর পক্ষ | তৃণমূল আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠন |
| তারিখ ও সময় | ২৫ ডিসেম্বর, গভীর রাত |
| অবস্থান | গোসাইরহাট, শরীয়তপুর |
| পোস্টারে লেখা মূল বার্তা | “অবৈধ ইউনূস সরকারের ধ্বংসাত্মক জ্বালাও-পোড়াও ও অবৈধ তফসিলের বিরুদ্ধে মশাল মিছিল।” |
| প্রধান নেতাদের ছবি | শেখ হাসিনা, আব্দুর রাজ্জাক |
| অংশগ্রহণকারীদের অবস্থা | মুখোশ বা কাপড়ে ঢাকা, পরিচয় অজানা |
| সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিক্রিয়া | ভিডিও ভাইরাল, স্থানীয় ও অনলাইন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু |
স্থানীয়রা মনে করছেন, এই হঠাৎ আয়োজনের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক সংকেত দেওয়া এবং দলের উপস্থিতি পুনরায় দৃঢ় করা। তবে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েও রয়েছে সমালোচনা।
