গভীর রাতে বিআরটিসির দুই বাসে আগুন

নোয়াখালীর সোনাপুর এলাকায় বুধবার গভীর রাতে বিআরটিসি ডিপোর দুটি যাত্রীবাহী বাস সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। স্থানীয়রা রাত প্রায় ২টা ৩০ মিনিটে আগুনের শিখা দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করেন। মাইজদী ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাত্র দশ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনের বিস্তার মূলত বাসের বডিতে থাকা ফোম এবং সিটের প্যাডিংয়ের কারণে তীব্রভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাস্থল ও ক্ষয়ক্ষতি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য নিচের টেবিলে সংক্ষেপে দেওয়া হলো:

বিষয়বিবরণ
ক্ষতিগ্রস্ত বাসগুলবাহার (পূর্ণ পুড়ে গেছে), মালতি (পূর্ণ পুড়ে গেছে), তৃতীয় বাস (আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত)
আগুন লাগার সময়রাত ২টা ৩০ মিনিট
ফায়ার সার্ভিসের সময়মুখী কার্যক্রম১০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে
ঘটনার অনুমানিত কারণপরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তামো. ফরিদ আহমেদ, সহকারী পরিচালক
পুলিশ কর্মকর্তামো. কামরুল ইসলাম, সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা

বিআরটিসি সোনাপুর ডিপোর ম্যানেজার মো. আরিফুর রহমান তুষার ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে জানান, এটি একটি পরিকল্পিত নাশকতার ঘটনা। তিনি বলেন, “আজই আমার বদলি হওয়ার কথা ছিল, আর নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দায়িত্ব নিতে আগ্রহী ছিলেন না। আমার ধারণা, বদলি ঠেকাতে এই অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। কাজটি পেশাদারভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, স্থানীয় সহকর্মী এবং এলাকাবাসী সবসময় সহযোগিতাপূর্ণ ছিলেন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ও কোনো সমস্যা হয়নি। তাই এটি সাধারণ মানুষের কাজ নয়, এটি একটি উদ্দেশ্যমূলক ও পরিকল্পিত অপকর্ম।

নোয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ জানান, রাত ২টা ৪০ মিনিটে খবর পাওয়ার পর তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। তিনি বলেন, “দুটি বাস পুরোপুরি পুড়ে গেছে এবং একটি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষে জানা যাবে।”

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম সংবাদ সংক্ষেপে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আগুন লাগার প্রকৃত কারণ শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো প্রমাণ মিললেই দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনায় স্থানীয় বাস চলাচল কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও পুনঃচলাচল নিশ্চিত করতে বিআরটিসি এবং ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে তৎপর রয়েছে।

সংবাদটি বিশ্লেষণে বোঝা যায়, অগ্নিসংযোগের পেছনে ব্যক্তিগত বা প্রশাসনিক মতবিরোধকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত হামলার সম্ভাবনা বেশি। তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ছাড়া সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।