গজারিয়ায় বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে উত্তেজনা, সংঘর্ষে আহত ৮

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ঘোষণা ঘিরে সৃষ্টি হওয়া উত্তপ্ত পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের সংঘর্ষে গড়িয়েছে। এই সহিংসতায় নারীসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে জামালদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই সংঘর্ষ ঘটে, যা মুহূর্তে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

🔶 কীভাবে শুরু হলো দ্বন্দ্ব?

বৃহস্পতিবার বিএনপি ৩৬টি আসনের মনোনয়ন ঘোষণা করে। মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে মনোনয়ন পান কেন্দ্রীয় নেতা মো. কামরুজ্জামান রতন। এ ঘোষণার পর থেকেই মনোনয়ন বঞ্চিত জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মহিউদ্দিন আহমেদের অনুসারীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।

স্থানীয়রা জানান, গজারিয়ার রাজনীতিতে দুই পক্ষের প্রতিদ্বন্দ্বিতা দীর্ঘদিনের। মনোনয়ন ঘোষণাই ছিল সেই সুপ্ত উত্তেজনার বিস্ফোরণ ঘটানোর সূত্র।

🔶 সংঘর্ষের মুহূর্ত

সন্ধ্যার আগে মহিউদ্দিনের অনুসারীরা সাহারা মার্কেট এলাকায় আলী হোসেনের অফিসের সামনে মশাল মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অপরদিকে, রতন সমর্থকেরা সড়কের একপাশে আনন্দ মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

এ অবস্থায় দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য—ইটপাটকেল ছোড়া, ককটেল বিস্ফোরণ, এমনকি গুলির শব্দও শোনা যায়। সংঘর্ষে দুই পক্ষ অন্তত ১৫ মিনিট হাতাহাতি ও ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত থাকে।

🔶 আহতদের পরিচয় ও অবস্থা

আহতদের মধ্যে আটজনের পরিচয় পাওয়া গেছে—
স্বাধীন, শিরিনা বেগম, সাইদুল, দেলোয়ার, মোস্তফা, সুজন, আসিফ মীর ও নয়ন।
এদের মধ্যে স্বাধীন ও সাইদুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

দোকানপাট ভাঙচুর, আলী হোসেনের ব্যক্তিগত গাড়ি নিশ্চিহ্ন, এবং তার অফিসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

🔶 দুই পক্ষের বিরোধী বক্তব্য

আলী হোসেনের দাবি:
“আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি করছিলাম। হঠাৎ আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। গাড়ি ভেঙে দিয়েছে, ছয়–সাতজনকে আহত করেছে।”

মমিন মৃধার বক্তব্য:
“রতন ভাইয়ের মনোনয়নকে কেন্দ্র করে আমরা আনন্দ মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। আলী হোসেনের অফিস থেকে গুলি ও ককটেল নিক্ষেপ করলে আমরা প্রতিহত করি।”

জেলা বিএনপি নেতার ব্যাখ্যা:
মাসুদ ফারুক বলেন,
“এটি বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ নয়। রতনের মনোনয়ন ঘোষণায় সাধারণ মানুষ আনন্দ করেছে, আর আওয়ামী দোসররা তা সহ্য করতে না পেরে হামলা করেছে।”

🔶 প্রশাসনের অবস্থান

সংঘর্ষের খবর পেয়ে গজারিয়া থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে এলাকায় অবস্থান নেন। রাত পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে।

🔶 বিশ্লেষণ: অভ্যন্তরীণ কোন্দল নাকি বহিরাগত প্রভাব?

যদিও জেলা বিএনপি দাবি করছে—এটি অভ্যন্তরীণ কোনো সংঘর্ষ নয়, তবু ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র ভিন্ন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়—

  • মনোনয়ন বঞ্চিতদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ,

  • দলীয় গ্রুপিংয়ের তীব্রতা,

  • মাঠ পর্যায়ে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব
    সব মিলিয়েই এই সহিংসতার জন্ম।

এও বলা যায়, স্থানীয় সাংগঠনিক দুর্বলতা বিএনপির জাতীয় পর্যায়ে যে সংকট চলছে, তারই প্রতিফলন।

🔶 উপসংহার

গজারিয়ার এই সংঘর্ষ আবারও দেখিয়ে দিল—মনোনয়ন রাজনীতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কতটা সংবেদনশীল এবং কতটা সহিংসতার জন্ম দিতে সক্ষম। নির্বাচন সামনে রেখে দলগুলো যখন মাঠে সক্রিয়, তখন দলের ভেতরে এমন ধ্বংসাত্মক বিভাজন সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলটির জন্য ভালো বার্তা নয়।