খুরশীদ জাহান হক, চকলেট আপা নামেও পরিচিত) হচ্ছেন একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ, সাবেক সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় বোন। সাবেক পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক তার স্বামী।
খুরশীদ জাহান হক | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

পূর্ণ নাম: বেগম খুরশীদ জাহান হক
জন্ম: ১১ আগস্ট ১৯৩৯, বালুবাড়ি, দিনাজপুর
মৃত্যু: ১৪ জুন ২০০৬, ঢাকায় চিকিৎস্যাধীন অবস্থায় (বয়সে ৬৬ বছর)
বান্ধবী ও সম্মানজনক নাম: ‘চকলেট আপা’
স্বামী: মোজাম্মেল হক (সাবেক পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান)
সম্পর্ক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় বোন; জিয়া ও তার ছেলের শাশুড়ি
শৈশব ও শিক্ষা
- দিনাজপুরের বালুবাড়িতে চা-ব্যবসায়ী পারিবারিক পটভূমিতে জন্ম। মা তৈয়বা মজুমদার, পিতৃব্যক্তিত্ব ইস্কান্দার আলী মজুমদার।
- কুমুদিনী কলেজ থেকে ১৯৫৮ সালে বিবিএ ডিগ্রি অর্জন। কলেজে ১৯৫৬-৫৭ শিক্ষাবর্ষে ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক জীবন
- ১৯৯১ সালে নারী সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হন, পরে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে দিনাজপুর-৩ আসনে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
- ১০ অক্টোবর ২০০১ থেকে ১৪ জুন ২০০৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রীর পদে ছিলেন।
- নারীর ও শিশুর প্রতি নিপীড়ন, মানব পাচার বন্ধে দৃঢ় উদ্যোগ গ্রহণ এবং সাহায্য কর্মসূচি চালু করেন
- বিএনপি’র ভাইস-চেয়ারম্যান পদেও ছিলেন।
পুনরুদ্ধারমূলক কাজ ও অবদান
- মানব পাচার রোধ ও পুনর্বাসন প্রকল্প চালু: ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার ও শিশুদের সহায়তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে কাজ করেন।
- নারীউন্নয়ন, শিশুর অধিকার ও সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
শেষ দিন
১৪ জুন ২০০৬ তারিখে করোনারি হাসপাতালে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তী সময়ে তার ছেলে শাহরিয়ার আক্তার হক “ডন” তার মায়ের কবর পরিদর্শন এবং জম্মপত্রের কার্যক্রম পরিচালনা করে।
সংক্ষিপ্ত টেবিল
| বিষয় | বিবরণ |
| জন্ম ও শিক্ষা | ১৯৩৯, দিনাজপুর – কুমুদিনী কলেজ, বিবিএ ১৯৫৮ |
| রাজনৈতিক দীক্ষা | ১৯৯১–০৬: সংসদ সদস্য, ২০০১–০৬: মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী |
| অবদান | মানব পাচার বিরোধী নীতি, শিশু ও নারী পুনর্বাসন, সামাজিক উন্নয়ন |
| শেষকৃত্য | ১৪ জুন ২০০৬, ঢাকা |

খুরশীদ জাহান হক ছিলেন একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক চেতনার প্রতীক। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে জাতীয় মন্ত্রণালয় পর্যায়ে অবদান রাখা, তাঁর জীবন রাষ্ট্রের নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষায় নিবেদিত ছিল। পরবর্তীতে ‘চকলেট আপা’ নামে আলোচিত হন, শিক্ষাদীক্ষা ও মানবতার পথে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
