সুদানের সামরিক বাহিনী সোমবার রাজধানী খার্তুমের কেন্দ্রস্থলে তাদের সৈন্যদের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে, যেখানে তারা প্রতিদ্বন্দ্বী আধাসামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জানান, আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর ওপর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং নগরী পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে তারা এগিয়ে যাচ্ছে। সংবাদ সংস্থা এএফপি ওমদুরমান থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে চলমান সংঘাতে সেনাবাহিনী আরএসএফ-এর বিরুদ্ধে নতুন অভিযান শুরু করেছে। গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় দীর্ঘ অবরোধ ভেঙে সেনারা নতুন করে অবস্থান নিয়েছে।
সেনা মুখপাত্র নাবিল আবদুল্লাহ আলী জানান, দক্ষিণ দিক থেকে অগ্রসরমান আর্মার্ড কোর্পস সৈন্যরা একটি গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল দখল করেছে এবং নগরীর কেন্দ্রস্থলে জেনারেল কমান্ড বাহিনীর সঙ্গে সংযুক্ত হতে পেরেছে।
একজন সামরিক বিশ্লেষক, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, এএফপিকে বলেন যে, এই অভিযান মধ্য খার্তুমের বেশিরভাগ এলাকায় সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করবে। এতে আরএসএফ যোদ্ধাদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হবে, বিশেষত প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের নিকটবর্তী এলাকায়।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে খার্তুম এবং তার আশপাশে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। সেনাবাহিনী রাজধানী ও অন্যান্য এলাকায় তাদের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।
গত অক্টোবরে সেনাবাহিনীর আর্মার্ড কোর্পস মাসব্যাপী অবরোধ ভেঙে বেরিয়ে আসে এবং জানুয়ারিতে জেনারেল কমান্ড সদর দপ্তরের প্রায় দুই বছরের অবরোধের অবসান ঘটায়।
সোমবার সন্ধ্যায় ওমদুরমানে আরএসএফ-এর কামানের গোলার আঘাতে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছে বলে একটি মেডিকেল সূত্র নিশ্চিত করেছে। ওমদুরমানে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে ধারাবাহিক গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।
একজন চিকিৎসক জানান, একদিন আগেও আরএসএফ-এর হামলায় ছয়জন বেসামরিক লোক নিহত এবং ৩৬ জন আহত হয়েছে, যার মধ্যে অনেক শিশু রয়েছে। সেনা-সমর্থিত খার্তুম আঞ্চলিক সরকারের মতে, আবাসিক এলাকায় বোমা হামলায় সাধারণ জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তীব্র লড়াই চলছে
শনিবার এক ভিডিও বার্তায়, আরএসএফ কমান্ডার মোহাম্মদ হামদান দাগলো বলেন, তার বাহিনী খার্তুমের রিপাবলিকান প্রাসাদ ছেড়ে যাবে না।
সংঘাত চলাকালে এএফপি’র সাংবাদিকরা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শুনতে পেয়েছেন এবং শহরের কেন্দ্রস্থলে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখেছেন।
এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং ১.২ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, কেবল খার্তুম থেকেই কমপক্ষে ৩৫ লাখ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।
এদিকে, রাজধানী থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে এল-ওবাইদ শহরে আরএসএফ-এর গোলাবর্ষণে দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ১৫ জন আহত হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কর্দোফানে বর্তমানে দুই লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত এবং প্রায় দশ লাখ মানুষ খাদ্য সংকটে ভুগছে।
দক্ষিণ সুদান ও ইথিওপিয়ার সীমান্তবর্তী ব্লু নাইল রাজ্যেও নতুন করে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক অভিযানে সেনাবাহিনী খার্তুম ও মধ্য সুদানে সাফল্য অর্জন করেছে, যা রাজধানী পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।
