আমাদের সমাজ ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার এক করুণ দৃষ্টান্ত স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি মর্মস্পর্শী ঘটনায়। এক তরুণী মা, যিনি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের স্ত্রী হিসেবে অতিব দরিদ্র জীবনের সঙ্গে লড়াই করছিলেন, শেষ পর্যন্ত নিজের ও সন্তানের জীবন শেষ করার সিদ্ধান্তে বাধ্য হন।
জানা যায়, এই নারী দিনের পর দিন সাহায্যের জন্য মানুষের দ্বারপর দ্বার ঘুরেছেন, কিন্তু প্রায় সবাই ভয়ের কারণে পাশে দাঁড়াতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক পরিচয় কখনো আশীর্বাদ নয়, বরং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার এক ভয়ঙ্কর দাগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত বা পারিবারিক শোকের ঘটনা নয়। এটি আমাদের সমাজের একটি নির্মম ব্যর্থতার প্রমাণ, যেখানে অসহায় মানুষের জন্য মৌলিক সহায়তার অভাব লক্ষ্য করা যায়। রাজনীতি ও সামাজিক কাঠামো যখন পরিবার ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তখন এই ধরনের মর্মান্তিক পরিণতি অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে।
এক নজরে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| নিহত মা | সাদ্দামের স্ত্রী (নাম গোপন) |
| বয়স | প্রায় ২০–২৫ বছর |
| সন্তান | ১ জন, শিশু |
| স্বামী | কারাবন্দি ছাত্রলীগ নেতা |
| ঘটনার কারণ | অনাহার, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, অর্থনৈতিক অনটন |
| সরকারি পদক্ষেপ | প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি |
| মানবিক চাপে ফলাফল | মা ও সন্তানের মৃত্যু |
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দিক হলো, সরকার ওই কারাবন্দি নেতাকে প্যারোলে মুক্তি দেয়নি, যাতে তিনি শেষবারের মতো স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। রাষ্ট্রীয় কঠোরতার কারণে মানবিকতার মূল্য সম্পূর্ণভাবে অবমূল্যায়িত হয়েছে।
এই ঘটনার পর আমাদের সমাজের জন্য একটি গুরুতর প্রশ্ন জন্মেছে—রাজনীতি কি সত্যিই মানুষের মৌলিক অধিকার ও জীবনকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়ে গেছে? যখন বিপুল সম্পদের মালিকরা বিলাসী জীবনযাপন করছেন, তখন এই ধরনের মানবিক ক্ষয় কেন আমরা দেখতে পাচ্ছি?
এই মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের বিবেককে সতর্ক করছে। আমাদের উচিত রাজনীতি, দল ও মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। পরিবার ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো রাজনৈতিক স্বার্থের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
শেষে প্রার্থনা করা যাক—মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন এই মা ও তার শিশুকে পরপারে শান্তি দান করুন। আমাদের জন্য রেখে যান এক কঠিন প্রশ্ন—আর কত লাশ পড়তে হবে, আমাদের রাজনীতি ও সমাজে মানবিকতা ফিরে আসবে?
লেখক: এবিএম জাকিরুল হক টিটন
