কুষ্টিয়ায় আধিপত্য সংঘর্ষে চার গুলিবিদ্ধ, দশ আহত

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বেড় কালোয়া এলাকায় রোববার (২২ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধের জেরেই সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে চারজন গুলিবিদ্ধ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে এক চায়ের দোকানে কোমলপানীয় খাওয়ার সময়। দুই গ্রুপের মধ্যে পূর্বপ্রতিষ্ঠিত বিরোধের জেরেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মূল বিরোধটি কয়া ইউনিয়নের বেড় কালোয়া গ্রামের পুলিশ হত্যা মামলার আসামি ইয়ারুল ও রাশু মেম্বার গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান।

গুলিবিদ্ধরা হলেন:

নামবয়সগ্রামের নামপিতার নামগ্রুপ
আজম শেখ৫৪বেড় কালোয়াআমজাদ শেখরাশু মেম্বার গ্রুপ
রাব্বি শেখ২২বেড় কালোয়াবাবু শেখরাশু মেম্বার গ্রুপ
সারুখ শেখ২০বেড় কালোয়ামুক্তার শেখরাশু মেম্বার গ্রুপ
জনি শেখ২১বেড় কালোয়ালিটন শেখরাশু মেম্বার গ্রুপ

প্রাথমিকভাবে আহতদের কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে গুরুতর অবস্থার চারজনকে কুষ্টিয়ার ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কয়েকজনের অবস্থা এখনও গুরুতর।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, “আজকের হামলা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, “এলাকায় পুনরায় কোনো সহিংসতা না ঘটে তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”

স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। দোকানপাট ও বাজারে সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত হয়েছে। পুলিশ অতিরিক্ত পেট্রোল ও মোতায়েনের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্থানীয় রাজনীতি ও আধিপত্যের জেরেই এ ধরনের সহিংসতা ঘটে। তারা সতর্ক করেছেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি দ্রুততার সঙ্গে হস্তক্ষেপ না করে, পরিস্থিতি আরও অব্যাহতভাবে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ঘটনার পর বেড় কালোয়া গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও দুশ্চিন্তা বিরাজ করছে। আহতদের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত এবং সমানভাবে চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ দুই পক্ষের কাছ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিভিন্ন সতর্কতা ও নজরদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। স্থানীয় প্রশাসন আশা করছে, দ্রুত আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করা সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘর্ষ প্রতিরোধ করা যাবে।