ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লায় নিয়ন্ত্রণহীন একটি বাসের চাপায় ৭৮ বছর বয়সী এক পথচারী নিহত হয়েছেন। আহত ও নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ওই বাসে আগুন ধরিয়ে দেন, যা মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে বিশাল যানজট সৃষ্টি করে।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কাবিলা এলাকায়। নিহত পথচারীর নাম মো. সিরাজুল হক, তিনি কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল ইউনিয়নের বাসিন্দা। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তিনি চান্দিনা থেকে কাবিলা এলাকায় যাচ্ছিলেন। পথচারী মহাসড়ক পারাপারের সময় কুমিল্লা থেকে ছেড়ে আসা গৌরীপুরগামী ‘নিউ একতা পরিবহন’-এর একটি দ্রুতগামী বাস তাকে চাপা দেয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা অবিলম্বে বাসটির পিছু নেয়। মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল ব্যবহার করে বাসটি কোরপাই এলাকায় আটক করা হয়। তারপর যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা বাসে অগ্নিসংযোগ করে। এই ঘটনায় মহাসড়কের দুই পাশে অন্তত ২০ কিলোমিটার এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে চান্দিনা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর একটি টিম এবং ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ময়নামতি হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল মুমিন জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটির চালক পালিয়ে গেছেন। পুড়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনায় স্থানীয়রা আবারও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, মহাসড়কের দ্রুতগামী যানবাহনের কারণে ছোট ছোট দুর্ঘটনা বড় আকার ধারণ করতে পারে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ঘটনাস্থল ও বাসচাপা ঘটনায় বিস্তারিত :
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| দুর্ঘটনার তারিখ ও সময় | ২৫ ডিসেম্বর, বিকেল ৩:৩০ |
| স্থান | কাবিলা, বুড়িচং, কুমিল্লা |
| নিহত | মো. সিরাজুল হক (৭৮) |
| বাসের নাম | নিউ একতা পরিবহন |
| বাসগতি | দ্রুতগামী |
| বাসের অবস্থা | আগুনে পুড়ে থানায় রাখা হয়েছে |
| পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস | চান্দিনা ফায়ার সার্ভিস ২টি ইউনিট, ময়নামতি হাইওয়ে থানার পুলিশ, সেনাবাহিনী টিম উপস্থিত |
| যানজট | মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ২০ কিলোমিটার |
