কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার পেড়িয়া ইউনিয়নে নির্বাচন সংলগ্ন এলাকায় এক জামায়াত নেতার মালিকানাধীন মৎস্য প্রকল্প থেকে বিপুল পরিমাণ সন্দেহভাজন ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও জিআই পাইপ উদ্ধার করেছে যৌথবাহিনী। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মগুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের পার্শ্ববর্তী ‘আল বাশারাত মৎস্য প্রজেক্ট’ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—গন্ধক, মইঞ্জাল (দেশীয় বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণ বলে ধারণা করা হচ্ছে), ফুয়েল পেপার, সিলেকশন পাথর, ২০০টির বেশি খালি জর্দার কৌটা এবং ১০০টির বেশি জিআই পাইপ। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী এগুলো দেশীয় ককটেল বা পাইপবোমা তৈরিতে ব্যবহার হতে পারে। তবে চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা প্রয়োজন।
মৎস্য প্রকল্পটির মালিক হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত সাইফুল ইসলাম মামুন, যিনি ইউনিয়ন জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কয়েকদিন ধরে প্রকল্পে অস্বাভাবিকভাবে বস্তা আনা-নেওয়া হচ্ছিল। বুধবার দুপুরে কয়েকজন ব্যক্তি মাইক্রোবাসে বস্তাসহ দ্রুত প্রস্থান করলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। তারা পরিত্যক্ত ভবনে প্রবেশ করে বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম দেখতে পান এবং থানায় খবর দেন।
নিচে উদ্ধারকৃত সামগ্রীর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| ক্রমিক | উদ্ধারকৃত সামগ্রী | আনুমানিক পরিমাণ | সম্ভাব্য ব্যবহার (প্রাথমিক ধারণা) |
|---|---|---|---|
| ১ | গন্ধক | উল্লেখযোগ্য | বিস্ফোরক মিশ্রণে ব্যবহার |
| ২ | মইঞ্জাল | অজানা | দেশীয় ককটেল প্রস্তুতে ব্যবহৃত হতে পারে |
| ৩ | ফুয়েল পেপার | একাধিক বান্ডিল | আগুন জ্বালানো বা বিস্ফোরণ সক্রিয়করণ |
| ৪ | সিলেকশন পাথর | কয়েক বস্তা | ঘর্ষণ বা স্পার্ক তৈরিতে সম্ভাব্য ব্যবহার |
| ৫ | খালি জর্দার কৌটা | ২০০টির বেশি | ককটেলের খোলস হিসেবে ব্যবহারের আশঙ্কা |
| ৬ | জিআই পাইপ | ১০০টির বেশি | পাইপবোমা সদৃশ বস্তু তৈরির সম্ভাবনা |
স্থানীয় জামায়াত নেতা মাওলানা নোমান ঘটনাটিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে যুব নেতা মামুনকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা সাজিয়েছে।
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে এসব সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। তবে এগুলো বাস্তবে ককটেল তৈরিতে ব্যবহার হয়েছে কি না, তা বিশেষজ্ঞ পরীক্ষার পর জানা যাবে। এখনও কাউকে আটক করা হয়নি, তবে তদন্ত চলমান রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভোটকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকা থেকে এই ধরনের সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনা নির্বাচনপূর্ব নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াতে পারে। তারা মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তই এ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
