কীভাবে অস্ট্রেলিয়া স্বপ্নের মতো বিশ্বকাপ হারালো

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন এক ধীর এবং হতাশাজনক বিদায়ের সাক্ষী আমরা হয়তো অনেকবার দেখেছি, তবে অস্ট্রেলিয়ার ২০২৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপ অভিযান তার মধ্যে অন্যতম। পল্লেকেলে ম্যাচের ১৬তম ওভারের প্রথম বলেই সবকিছু যেন প্রতিফলিত হয়—অপ্রয়োজনীয় ভুল, নীরবতার মধ্য দিয়ে অপ্রস্তুতির চূড়ান্ত প্রকাশ।

ওমানের ব্যাটসম্যান ওয়াসিম আলির সরাসরি হিট করা বল ধরলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। কিন্তু তার থ্রো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে অস্ট্রেলিয়ার লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পার পায়ের মধ্য দিয়ে চলে গেল, ওয়াসিমকে একটি সহজ রান উপহার দিল। মাঠে থাকা অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়দের সবার প্রতিক্রিয়া এই মুহূর্তের গুরুত্বকে প্রমাণ করল—প্রায় কোনও প্রভাব ছিল না।

পল্লেকেলে টসে জিতে মিচ মার্শের দল প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যদিও পিচ ব্যাটিং-অনুকূল ছিল। এটি অস্ট্রেলিয়ার জন্য ট্র্যাজেডির শুরু মাত্র। ১৫ দিনের আগেই তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে গিয়েছিল। তিনটি টেস্ট দেশের মধ্যে তারা ছিল এমন দল, যারা প্রাথমিক পর্যায়ে বিদায় নিল—অন্য দুটি ছিল আফগানিস্তান এবং আয়ারল্যান্ড।

এই ব্যর্থতার বিস্তার বোঝাতে নিচের টেবিলটি সাহায্য করবে:

দলরাউন্ড ১ ফলাফলরাউন্ড ২ বা সুপার ৮ অবদানমূল বিষয়
অস্ট্রেলিয়া০ জয়, ৩ হারবিদায়ব্যাটসম্যানদের ফর্মহীনতা ও আঘাত
জিম্বাবুয়ে২ জয়, ১ হারসুপার ৮ অনুপস্থিতঅপ্রত্যাশিত জয়
শ্রীলঙ্কা৩ জয়, ০ হারসুপার ৮আংশিক হোস্ট সুবিধা

অস্ট্রেলিয়ার ব্যর্থতার মূল কারণ ছিল ব্যাটিং এবং বোলিং উভয় ক্ষেত্রেই। প্রি-টুর্নামেন্টে তারা ২০ ম্যাচের মধ্যে ১৬টি জয় করলেও, বিশ্বকাপে দলের প্রধান বোলাররা—প্যাট কমিন্স, জোশ হ্যাজলউড এবং মিচেল স্টার্ক—অংশ নিতে পারেননি। ব্যাটিং-এ ম্যাক্সওয়েল, কেমেরন গ্রিন এবং জোশ ইনগলিসের ফর্মের পতন, টিম ডেভিডের আঘাত থেকে ফিরে আসা—সবই একত্রে “সিক্রেট সস” হারিয়ে ফেলেছে।

ফলে দলের আক্রমণাত্মক ক্ষমতা একেবারেই ধ্বংসপ্রাপ্ত। জাম্পার, নাথান এলিস এবং দ্বিতীয় সারির বোলাররা যথেষ্ট প্রভাব ফেলতে পারেননি। রানের চাপে ব্যর্থ হয়ে অস্ট্রেলিয়া মাত্র দুইটি উইকেট তুলতে সক্ষম হল জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে।

ক্লান্ত, আহত এবং অনুপ্রাণিত নয়—অস্ট্রেলিয়ার এই দল যেন প্রতিটি মুহূর্তে “বিদায়ের জন্য প্রস্তুত” ছিল। মাঠে প্রতিটি মুহূর্তে খেলোয়াড়দের উদাসীনতা এবং অভাবিত উদযাপন এভাবেই প্রতিফলিত হলো।

বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে এটি এক বিস্মৃতিমূলক, তবে শিক্ষণীয় অধ্যায়। সেলেক্টর টনি ডোডেমাইডের পরিকল্পিত “ফরেনসিক রিভিউ” আগামী মাসে বিষয়গুলো স্পষ্ট করবে। তবে এই ব্যর্থতা ও মাঠে উদাসীনতার ছবি দীর্ঘদিন ভক্তদের মনে থেকে যাবে।

শেষ পর্যন্ত, অস্ট্রেলিয়ার এই অভিযান দেখিয়েছে যে, পুরনো শিরোপা জয়ের ধারা এবং নামী ব্যাটসম্যানদের থাকা সত্ত্বেও টি২০ ফরম্যাটে প্রিপেয়ারেশন এবং ফোকাস ছাড়া বিশ্বকাপ জয় অসম্ভব।