পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে নিঃসঙ্গভাবে ফাঁসির আসামি রাখার কক্ষে বন্দী করা হয়েছে এবং বাইরের বিশ্বের সঙ্গে কোনো যোগাযোগের সুযোগ নেই। ২৭ নভেম্বর কাসিম খান সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, বাবা তার অন্ধকার কক্ষে আছেন, যা সাধারণত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীদের জন্য বরাদ্দ থাকে।
কাসিম খান অভিযোগ করেছেন, ইমরানকে দিনে ২২ ঘণ্টা একা রাখা হচ্ছে, পরিবারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং চিকিৎসককে দূরে রাখা হচ্ছে। তিনি এটিকে ‘মানসিক নিপীড়ন এবং মনোবল ভাঙার পরিকল্পিত কৌশল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কাসিম ও তাঁর বড় ভাই সুলায়মান খান, প্রাক্তন স্ত্রী জেমাইমা গোল্ডস্মিথের সঙ্গে মিলিত হয়ে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন করেছেন। তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দেখা এবং জীবিত থাকার প্রমাণ প্রদর্শনের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন।
অন্যদিকে ইমরানের তিন বোন ও পিটিআই দলীয় নেতারা রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের বাইরে বিক্ষোভ করেছেন। তারা সরকারের কাছে ইমরানের সুস্থতার প্রমাণ দেখানোর এবং সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। শুক্রবার তারা ইসলামাবাদ হাইকোর্টে আবেদন করেন, কারা সুপারিনটেনডেন্টের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়ের করা হয়।
ইমরান আগস্ট ২০২৩ থেকে কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবিরোধী সহ একাধিক মামলা চলমান। সরকারি পক্ষ দাবি করছে, ইমরান সুস্থ আছেন এবং কারাগার থেকে সরানো হয়নি। তবে বিরোধীদলীয় জোট সরকারের এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে দেশজুড়ে বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, যদি কাসিম ও সুলায়মান খানের মতো পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাতের চেষ্টা করেন, তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।
এই পরিস্থিতি পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, যেখানে মানবাধিকার, কারাগারের নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের ইস্যু সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বিষয়টিকে নজরদারি করছেন।
