‘সবকিছু বদলে যায়’—এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যের মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র-এর দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, প্রত্যাশা ও আত্মপ্রতিষ্ঠার গল্প। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ-এর শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে ম্যানচেস্টার সিটি-র বিপক্ষে জোড়া গোল করার পর তাঁর এই মন্তব্য কেবল ম্যাচ-পরিস্থিতি নয়, ব্যক্তিগত লড়াইয়েরও প্রতিফলন।
প্রথম লেগে রিয়াল মাদ্রিদ ৩–০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় লেগে স্বাগতিক সিটি প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন দেখছিল। তবে সেই আশা ভেঙে দেন ভিনিসিয়ুস নিজেই। ম্যাচের ২২তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। গোলের পর তাঁর ঠোঁটে আঙুল দিয়ে ‘চুপ’ করার ইঙ্গিত এবং এরপর কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে গিয়ে কান্নার ভঙ্গি—এই উদ্যাপন মুহূর্তেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।
এই কান্নার ভঙ্গির পেছনে রয়েছে একটি পুরোনো ঘটনা। ম্যাচ শেষে ভিনিসিয়ুস জানান, গত মৌসুমে ইতিহাদে খেলার সময় সিটির সমর্থকেরা তাঁর উদ্দেশে ‘স্টপ ক্রাইং’ লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেছিলেন। সেই ব্যানারের পেছনে ছিল ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অর বিতর্ক। ওই বছর ভিনিসিয়ুসকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে ধরা হলেও শেষ পর্যন্ত পুরস্কারটি জিতে নেন রদ্রি।
এই ফলাফল ঘোষণার আগেই খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। রিয়াল মাদ্রিদ আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠান বয়কটের ঘোষণা দেয়। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করা হলে ভিনিসিয়ুস কিংবা অন্তত দানি কারবাহাল বিজয়ী হওয়ার কথা ছিল। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ক্লাবটির প্রতি অসম্মানজনক আচরণের প্রতিফলন।
সেই ঘটনার পর থেকেই ভিনিসিয়ুস সমালোচনা ও ব্যঙ্গের শিকার হন, বিশেষ করে প্রতিপক্ষ সমর্থকদের কাছ থেকে। ইতিহাদের সেই ব্যানার ছিল তারই বহিঃপ্রকাশ। ফলে এবারের ম্যাচে তাঁর উদ্যাপন ছিল নিছক আবেগ নয়, বরং এক ধরনের প্রতীকী জবাব।
নিচের টেবিলে ঘটনাগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ম্যাচ | চ্যাম্পিয়নস লিগ, শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগ |
| প্রতিপক্ষ | ম্যানচেস্টার সিটি |
| ফলাফল | রিয়াল মাদ্রিদের জয় (সমষ্টিগত ব্যবধানে এগিয়ে) |
| ভিনিসিয়ুসের অবদান | ২ গোল |
| উদ্যাপন | ঠোঁটে আঙুল, কান্নার ভঙ্গি |
| পটভূমি | ২০২৪ ব্যালন ডি’অর বিতর্ক |
| ব্যানার | “স্টপ ক্রাইং” (সিটি সমর্থকদের) |
সব মিলিয়ে, ভিনিসিয়ুসের এই উদ্যাপন ছিল একদিকে প্রতিপক্ষের উদ্দেশে প্রতীকী বার্তা, অন্যদিকে নিজের সামর্থ্য প্রমাণের এক দৃঢ় ঘোষণা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমালোচনার জবাব তিনি দিয়েছেন নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে—এটাই হয়তো তাঁর ‘সবকিছু বদলে যায়’ মন্তব্যের প্রকৃত তাৎপর্য।
