ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে শনিবার বিকেলে ‘বাংলা পক্ষ’ নামের একটি সংগঠন বিক্ষোভ করেছে। বাগবাজার ও পার্ক সার্কাস সাতরাস্তার মোড়ে জড়ো হয়ে তারা বাংলাদেশ উপদূতাবাসের দিকে মিছিল শুরু করলে পুলিশ প্রায় ২০০ মিটার দূরে তাদের ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়।
পুলিশি বাধার মুখে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কিছুক্ষণ ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। তবে পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং বিক্ষোভকারীরা সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। কলকাতা পুলিশ জানায়, পূর্ব থেকে উপদূতাবাসের চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল, যাতে কোনও অপ্রত্যাশিত ঘটনা সংঘটিত না হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা এবং বৈষম্য চলমান রয়েছে। তারা দাবি করেন, ভারতের উচিত ১৯৭১ সালের মতো আবারও বাংলাদেশের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া। সংগঠনটির নেতা গর্গ চ্যাটার্জি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ছিল। আমরা শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সত্যিটা তুলে ধরতে চাই। কোনও ধরনের সহিংসতা বা ভাঙচুরের উদ্দেশ্য ছিল না।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববাসীর নজর বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি হওয়া নির্যাতনের দিকে জরুরি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ছাড়া তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন।” বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে মিছিল করেন, যাতে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের প্রতি সহিংসতা, বৈষম্য ও নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়।
কলকাতার স্থানীয় বাসিন্দারা ও পথচারীরা এই বিক্ষোভকে ঘিরে কৌতূহল প্রকাশ করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুরো এলাকাটিতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি ছিল, যাতে কোনো বড় ধরনের অশান্তি না ঘটে। উল্লেখযোগ্যভাবে, বিক্ষোভ শেষ হওয়া পর্যন্ত কোনও মারামারি বা বড় ধরনের সহিংসতা রিপোর্ট করা হয়নি।
এই ঘটনার মাধ্যমে ‘বাংলা পক্ষ’ এবং অন্যান্য সমর্থকরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছেন—বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষিত করা অত্যন্ত জরুরি।
