ভারতের কলকাতায় সংগীত, নৃত্য ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে শুরু হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘দ্য কলকাতা ট্র্যাডিশন ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’। আগামী ২ থেকে ৪ অক্টোবর সাউথ সিটি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে অনুষ্ঠিতব্য এই আয়োজনে একই মঞ্চে দেখা যাবে উপমহাদেশের বিভিন্ন ঘরানার খ্যাতিমান শিল্পীদের। লোকসংগীত, শাস্ত্রীয় সংগীত, ভজন, পারকাশন ও নৃত্যের নানা পরিবেশনায় সাজানো হয়েছে উৎসবের কর্মসূচি।
উৎসবের প্রথম দিনের অনুষ্ঠান শুরু হবে ২ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টায়। এতে অংশ নেবেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী লোপামুদ্রা মিত্র, ভজনশিল্পী অনুপ জলোটা, পারকাশনশিল্পী বিক্রম ঘোষ, ড্রামার শিবমণি এবং নৃত্যশিল্পী প্রীতি প্যাটেলসহ আরও অনেকে। ভারতীয় সংগীত ও সংস্কৃতির বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী ধারাকে একই আয়োজনের মাধ্যমে দর্শক-শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরাই উৎসবটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছে হিন্দুস্থান আর্ট অ্যান্ড মিউজিক সোসাইটি এবং ইটারনাল সাউন্ডসের উদ্যোগ ‘ভারত সংস্কৃতি যাত্রা’। তিন দিনের কর্মসূচিতে শিল্পীদের আলাদা আলাদা পরিবেশনার পাশাপাশি বিভিন্ন সংগীত ও নৃত্যধারার মধ্যে বৈচিত্র্যও তুলে ধরা হবে।
উৎসবের প্রথম দিনটি শুরু হবে বাংলার লোকসংগীতকে ঘিরে বিশেষ পরিবেশনা ‘বাংলার লোককথা’ দিয়ে। এতে অংশ নেবেন লোপামুদ্রা মিত্র ও দোহার। বাংলার লোকজ সংগীতের আবহের পর একই দিনে থাকছে ‘ত্রিকাল’ শিরোনামের বিশেষ সংগীত পরিবেশনা। এতে অংশ নেবেন গ্র্যামি পুরস্কারজয়ী পণ্ডিত এল. শঙ্কর, পদ্মশ্রী পণ্ডিত তরুণ ভট্টাচার্য, বিক্রম ঘোষ, পুলক সরকার ও প্রণব দত্ত।
প্রথম দিনের আয়োজনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে কথক নৃত্য। এই পর্বে পরিবেশনা করবেন গুরু গজেন্দ্র পান্ডা ও গুরু মধুমিতা রায়। ফলে উৎসবের সূচনাতেই সংগীতের পাশাপাশি ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যের উপস্থিতি থাকবে।
দ্বিতীয় দিনের আয়োজন সাজানো হয়েছে মূলত শাস্ত্রীয় সংগীত, পারকাশন ও ভজনকে ঘিরে। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের অন্যতম শ্রদ্ধেয় শিল্পী পদ্মবিভূষণ বেগম পারভীন সুলতানা এদিন বিশেষ পরিবেশনা করবেন। তাঁর সঙ্গে মঞ্চে থাকবেন পণ্ডিত সমর সাহা ও পণ্ডিত জ্যোতি গোস্বামী।
দ্বিতীয় দিনের আরেকটি আকর্ষণ হবে পদ্মশ্রী শিবমণির বিশেষ পরিবেশনা ‘অগ্নির বাদ্য’। পারকাশনভিত্তিক এই পরিবেশনার পাশাপাশি থাকছে ‘ভজন সম্রাট’ পর্ব। এতে সংগীত পরিবেশন করবেন পদ্মশ্রী পণ্ডিত অনুপ জলোটা ও পণ্ডিত প্রসেনজিৎ পোদ্দার। একই দিনে শাস্ত্রীয় ও ভক্তিমূলক সংগীতের পাশাপাশি বাদ্যযন্ত্রনির্ভর পরিবেশনা থাকায় অনুষ্ঠানের বৈচিত্র্য আরও বাড়বে।
৪ অক্টোবর উৎসবের শেষ দিনেও থাকছে একাধিক আয়োজন। ‘ঐতিহ্যের মিলন’ শিরোনামের পরিবেশনায় অংশ নেবেন পণ্ডিত বিশ্বমোহন ভাট, বিদ্বান শশাঙ্ক সুব্রহ্মণ্যন, যশবন্ত বৈষ্ণব ও কিশোর রমেশ। ভারতীয় বাদ্যসংগীতের বিভিন্ন ঐতিহ্যকে সামনে আনার পাশাপাশি এ পর্বে একাধিক শিল্পীর সম্মিলিত পরিবেশনা থাকছে।
সমাপনী দিনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য পরিবেশনা হবে পণ্ডিত গোবিন্দ বোসের ‘তালের ধ্বনি’। নৃত্যপ্রেমীদের জন্য থাকছে গুরু প্রীতি প্যাটেল ও জয়া শীলঘোষের ‘ভারতের নৃত্যধারা’। ফলে উৎসবের শেষ দিনেও সংগীত ও নৃত্যের সমন্বয় বজায় থাকবে।
উৎসবের ভেন্যু সাউথ সিটি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল কলকাতার ৩৭৫ প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডে অবস্থিত। ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি সংগীত, নৃত্য, থিয়েটার ও দৃশ্যশিল্প চর্চার সঙ্গেও যুক্ত।
তিন দিনের এই আয়োজনে একই মঞ্চে বিভিন্ন ঘরানার শিল্পীদের উপস্থিতি কলকাতার সাংস্কৃতিক পরিসরে বৈচিত্র্য আনবে। বাংলার লোকসংগীত দিয়ে শুরু হয়ে শাস্ত্রীয় সংগীত, ভজন, পারকাশন, কথক ও অন্যান্য নৃত্যধারার মধ্য দিয়ে উৎসবটি এগোবে। ফলে সংগীত ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের জন্য ২ থেকে ৪ অক্টোবরের এই আয়োজন হয়ে উঠতে পারে ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনার নানা রূপ দেখার একটি সমৃদ্ধ সুযোগ।









