কর ফাঁকি উদ্ধার ৫৩২ কোটি

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট কর ফাঁকি শনাক্তকরণ ও রাজস্ব পুনরুদ্ধারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে এই ইউনিট দেশের কর ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও রাজস্ব সুরক্ষায় ধারাবাহিকভাবে অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এই সময়কালে সারাদেশে মোট তিন হাজার তিনশোরও বেশি আয়কর নথি তদন্তাধীন রয়েছে। এসব নথির ভিত্তিতে ব্যক্তি করদাতা ও বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে প্রায় সাত হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকির তথ্য উদঘাটিত হয়েছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে আয় গোপন, কম দেখানো এবং হিসাব জালিয়াতির মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ রাজস্ব এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের ধারাবাহিক অভিযানে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত এসেছে। চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৫৩২ কোটি টাকা ফাঁকিকৃত আয়কর আদায় নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু চলতি অর্থবছরেই পুনরুদ্ধার করা রাজস্বের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১৪ কোটি টাকা। তদন্তে প্রমাণিত কর ফাঁকির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট করদাতারা ধাপে ধাপে অর্থ পরিশোধ করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এই কার্যক্রমে মূলত আয় গোপন, অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো, সম্পদ লুকিয়ে রাখা এবং ব্যবসায়িক লেনদেনে অনিয়মের মতো বিষয়গুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। পরবর্তীতে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট করদাতাদের কাছ থেকে বকেয়া রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে। এতে শুধু রাজস্ব আদায়ই নয়, বরং কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ দেশের কর সংস্কৃতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত কর ফাঁকির প্রবণতা কমাতে এ ধরনের গোয়েন্দা কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে এটি সৎ করদাতাদের আস্থা বাড়াতেও সহায়তা করছে।

আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের কর কমিশনার জানিয়েছেন, কর ফাঁকি উদঘাটন ও রাজস্ব পুনরুদ্ধারে কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ করছেন। ভবিষ্যতে এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করা হবে, যাতে কর ফাঁকির সুযোগ আরও সীমিত করা যায় এবং জাতীয় অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো সম্ভব হয়।

প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, তথ্য বিশ্লেষণ সক্ষমতা উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে এই ইউনিটকে আরও কার্যকর করা গেলে ভবিষ্যতে কর ফাঁকি শনাক্তকরণ ও আদায়ের হার আরও বাড়বে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

কর ফাঁকি ও আদায়ের সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়তথ্য
তদন্তাধীন নথির সংখ্যাতিন হাজার তিনশোরও বেশি
উদঘাটিত কর ফাঁকির পরিমাণপ্রায় সাত হাজার কোটি টাকা
মোট আদায় (এপ্রিল পর্যন্ত)৫৩২ কোটি টাকা
চলতি অর্থবছরে আদায়৪১৪ কোটি টাকা
কার্যক্রম শুরুর সময়ডিসেম্বর ২০২৪

সার্বিকভাবে বলা যায়, কর ফাঁকি উদঘাটন ও রাজস্ব পুনরুদ্ধারে এই উদ্যোগ দেশের অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা এবং রাজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।