চট্টগ্রামের ব্যস্ততম কর্ণফুলী নদীতে ঘন কুয়াশার দাপটে নৌ-দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে ‘এমভি টিটু-৮’ নামক একটি পণ্যবাহী লাইটারেজ জাহাজ। শনিবার গভীর রাতে মাঝিরঘাট সংলগ্ন এলাকায় অন্য একটি নৌযানের সঙ্গে সংঘর্ষের পর জাহাজটি নদীতে আংশিক নিমজ্জিত হয়। আবহাওয়াগত প্রতিকূলতা এবং দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ার কারণেই এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তবে জাহাজে থাকা ১৩ জন নাবিকের সবাই অক্ষত অবস্থায় তীরে ফিরে আসায় কোনো বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ঘটেনি।
দুর্ঘটনার শিকার লাইটারেজ জাহাজটি দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী আবুল খায়ের কোম্পানির জন্য আমদানিকৃত স্ক্র্যাপ লোহা (রড তৈরির প্রধান কাঁচামাল) বহন করছিল। জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে থাকা বড় জাহাজ থেকে পণ্য নিয়ে আনলোডিং পয়েন্টের দিকে আসছিল। সদরঘাট নৌ পুলিশের তথ্যানুযায়ী, গভীর রাতে কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে গেলে চালক সামনের পথ ঠিকমতো দেখতে পাননি। জাহাজটি তীরে ভেড়ানোর উদ্দেশ্যে ঘোরানোর সময় অন্য একটি লাইটারেজের সঙ্গে এর সজোরে ধাক্কা লাগে। সংঘর্ষের প্রভাবে এমভি টিটু-৮ এর মূল কাঠামোর ডান দিকে একটি বড় গর্ত তৈরি হয় এবং হু হু করে পানি ঢুকতে শুরু করে।
এই নৌ-দুর্ঘটনা এবং বর্তমান উদ্ধার তৎপরতার বিস্তারিত তথ্য নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো:
এমভি টিটু-৮ জাহাজ দুর্ঘটনার সার্বিক চিত্র
| তথ্যের ধরণ | বিস্তারিত বিবরণ |
| নৌযানের নাম ও ধরণ | এমভি টিটু-৮ (লাইটারেজ জাহাজ) |
| বহনকৃত পণ্য | স্ক্র্যাপ লোহা (নির্মাণ সামগ্রীর কাঁচামাল) |
| আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান | আবুল খায়ের গ্রুপ |
| দুর্ঘটনার সময় | শনিবার দিবাগত গভীর রাত |
| দুর্ঘটনার স্থান | মাঝিরঘাট এলাকা, চট্টগ্রাম |
| উদ্ধারকৃত ক্রু | ১৩ জন (নিরাপদ ও সুস্থ) |
| বর্তমান পরিস্থিতি | আংশিক নিমজ্জিত অবস্থায় পণ্য খালাস চলছে |
নৌ পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, জাহাজটি তীরের খুব কাছাকাছি থাকায় এটি পুরোপুরি তলিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। এর ফলে জাহাজের ভেতরে থাকা স্ক্র্যাপ লোহা উদ্ধারের কাজ সহজ হয়েছে। রবিবার দিনভর কয়েকশ শ্রমিকের সহায়তায় আংশিক নিমজ্জিত জাহাজটি থেকে পণ্য খালাস করা হয়েছে। নাবিকদের ভাষ্যমতে, হাড়কাঁপানো শীতের রাতে কুয়াশা এতই ঘন ছিল যে ফগ লাইট জ্বালিয়েও সামনের কোনো চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না, যার ফলে এই অপ্রত্যাশিত নৌ-সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলে কুয়াশার কারণে এমন দুর্ঘটনা শীতকালে নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বন্দর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আধুনিক রাডার ব্যবস্থা এবং উন্নত সিগন্যালিং পদ্ধতি ব্যবহার না করলে এই ধরণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব নয়। বিশেষ করে স্ক্র্যাপ লোহার মতো ভারী পণ্য নিয়ে চলার সময় ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়, যা ছোট সংঘর্ষেও জাহাজ ডোবার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং নৌ পুলিশ বর্তমানে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চ্যানেলের স্বাভাবিক যান চলাচল সচল রাখার চেষ্টা করছে। ভবিষ্যতে কুয়াশার সময় জাহাজ চলাচলে বিশেষ ‘সতর্কতা বার্তা’ মেনে চলার জন্য সকল মালিক ও চালকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
