গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত বন্ধ করতে দেশটির সরকার ও রুয়ান্ডা-সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী এম২৩ একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।
চুক্তিটি শনিবার কাতারের রাজধানী দোহায় স্বাক্ষরিত হয়। তিন মাস ধরে চলা আলোচনার পর এই সমঝোতা হয়, যাতে ‘স্থায়ী যুদ্ধবিরতির’ অঙ্গীকার করা হয়েছে।
দোহা চুক্তির আগে গত মাসে ওয়াশিংটনে কঙ্গো ও রুয়ান্ডার মধ্যেও পৃথক এক শান্তি চুক্তি হয়েছিল। এম২৩ তখন জানিয়েছিল, তারা কেবল কঙ্গো সরকারের সঙ্গে সরাসরি চুক্তিতে বিশ্বাস করে, কারণ ওয়াশিংটন চুক্তিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপেক্ষা করা হয়েছে।
প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ কঙ্গোর পূর্বাঞ্চল কয়েক দশক ধরে সংঘাতে জর্জরিত। এম২৩ বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলায় জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং বহু মানুষ গৃহহীন হয়েছে।
এই চুক্তির আওতায়, উভয় পক্ষ ‘স্থায়ী যুদ্ধবিরতি রক্ষার’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং বলপ্রয়োগ করে নতুন অবস্থান দখল বা ঘৃণামূলক প্রচারণা থেকে বিরত থাকার কথা বলেছে।
চুক্তিতে আরও রয়েছে একটি রোডম্যাপ, যার মাধ্যমে পূর্বাঞ্চলে সরকারি নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে এবং একটি বিস্তৃত শান্তি চুক্তির জন্য ভবিষ্যতে সরাসরি আলোচনা শুরু করা হবে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর কঙ্গো সরকারের প্রতিনিধি সুম্বু সীতা মাম্বু ও এম২৩-এর স্থায়ী সচিব বেঞ্জামিন এমবোনিম্পা করমর্দন করেন।
চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, আফ্রিকান ইউনিয়ন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন মনুস্কো।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে “আশা ও সম্ভাবনার নতুন অধ্যায়” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, যা কঙ্গো ও সমগ্র গ্রেট লেকস অঞ্চলে শান্তি ও উন্নয়নের পথ সুগম করবে।
রুয়ান্ডা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছে এবং এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আফ্রিকান ইউনিয়নও চুক্তিকে “গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি” বলে অভিহিত করে বলেছে, এটি অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় মাইলফলক।
