কক্সবাজারে যুবদল নেতা দু’জনকে গুলি করে হামলা

কক্সবাজার শহরের উত্তরণ আবাসিক এলাকায় যুবদলের দুই সক্রিয় নেতাকে লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোটরসাইকেলযোগে হেলমেট পরা তিন থেকে চারজন দুর্বৃত্ত এসে এলাকায় প্রবেশ করে এবং মুহূর্তের মধ্যে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন যুবদল কর্মী সাইফুল ইসলাম (৩৫) ও মোহাম্মদ ফারুক (৩৪)।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গুলির শব্দ শুনে তারা বাইরে ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে দ্রুত তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত সেবা প্রয়োজন হওয়ায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য রেফার করা হয়।

আহতদের পরিচয় ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা

সাইফুল ও ফারুক দুজনই কক্সবাজার পৌর যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয়। হামলার পর হাসপাতালে ছুটে যান কক্সবাজার পৌর যুবদলের সভাপতি আজিজুল হক সোহেল। তিনি বলেন,
“এটি পরিকল্পিত হামলা। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত—তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”

পূর্ব বিরোধের ইঙ্গিত

লারপাড়া এলাকার এক বাসিন্দা জানান, সাইফুলের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রতিপক্ষ গোষ্ঠীর বিরোধ চলে আসছে।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ব্যাডমিন্টন খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘাতের জেরে সাইফুলের আপন ভাই সাইদুল এবং চাচাতো ভাই কায়সারকে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় যেসব ব্যক্তি জড়িত ছিলেন তারা সাইফুলের প্রতিপক্ষ হিসেবেই পরিচিত। স্থানীয়দের ধারণা, ওই পুরোনো বিরোধ থেকেই সাইফুলকে লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা হতে পারে। তবে হামলা রাজনৈতিক নাকি ব্যক্তিগত বিরোধ—তা এখনও নিশ্চিত হয়নি।

পুলিশের অবস্থান

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন। তিনি জানান—
“হামলার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ মাঠে নেমেছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


আহত দুই যুবদল নেতার প্রাথমিক তথ্য

নামবয়সরাজনৈতিক পরিচয়বর্তমান অবস্থা
সাইফুল ইসলাম৩৫যুবদল কর্মীচট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন
মোহাম্মদ ফারুক৩৪যুবদল কর্মীচট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন

হামলার সম্ভাব্য কারণসমূহ (সমৃদ্ধ বিশ্লেষণ)

সম্ভাব্য কারণব্যাখ্যা
পুরোনো পারিবারিক বিরোধসাইফুলের দুই ঘনিষ্ঠ আত্মীয়কে হত্যার ঘটনার প্রতিশোধমূলক হামলা হতে পারে।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসাতারা দুজনই স্থানীয় যুবদলে সক্রিয় হওয়ায় রাজনৈতিক বৈরিতা থেকেও হামলা হতে পারে।
অপরাধীচক্রের আধিপত্যউত্তরণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব থাকতে পারে।

এই হামলা কক্সবাজারের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি—এলাকায় আইনশৃঙ্খলা জোরদার এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে আরও বড় ধরনের সংঘাত ঘটতে পারে। পুলিশ বলছে, তদন্ত এগিয়ে চলছে এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।