ইশতেহারে সংগীত অগ্রাধিকার চান শিল্পীরা, দাবি তুললেন হামিন

সংগীতবঞ্চনার অভিযোগে রাজনৈতিক দলগুলোকে কড়া বার্তা হামিন আহমেদের

বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন পেশা ও ক্ষেত্র থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে স্পষ্ট পরিকল্পনার দাবি উঠছে। এবার সেই দাবির মিছিলে সরাসরি নেতৃত্ব দিলেন দেশের রকসংগীত অঙ্গনের অন্যতম বর্ষীয়ান সংগীতশিল্পী ও ব্যান্ড মাইলস-এর প্রধান সদস্য হামিন আহমেদ। দেশের ৫৪ বছরের ইতিহাস ঘেঁটে তিনি তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন—কেন কোনও রাজনৈতিক দলই সংগীত ও সংস্কৃতি নিয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা বা প্রতিশ্রুতি দেয় না?

সংগীতপ্রেমীদের উদ্দেশে হামিনের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি

নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে হামিন আহমেদ স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন—
“জাতীয় নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। আমরা সংগীতস্রষ্টা, শিল্পী ও সংগীতপ্রেমীরা জানতে চাই—ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে সংগীত ও সংস্কৃতি নিয়ে আপনারা কী ইশতেহার দিচ্ছেন?”

তিনি অভিযোগ তোলেন যে দীর্ঘ ৫৪ বছরে কোনও দলই সংগীতভিত্তিক নীতি ঘোষণা করেনি, অথচ অন্যান্য খাতে বিস্তর পরিকল্পনা দেওয়া হয়। তাঁর মতে, সংগীতের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংস্কৃতিক খাতকে উপেক্ষা করা কেবল অবহেলা নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্য হুমকি।

ভোটারদের শক্তির ব্যবহারই সমাধান—মন্তব্যে এমন আহ্বান

নিজের পোস্টে ও মন্তব্যে হামিন আহমেদ নাগরিকদের ভোটাধিকারকে চাপ সৃষ্টির সবচেয়ে বড় অস্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি লিখেছেন—
“গান ভালোবাসেন এমন মানুষের সংখ্যা কি ২–৩ কোটি? নাকি আরও বেশি? এত মানুষের দাবি যদি হয় যে—‘সংস্কৃতি ও সংগীত নিয়ে পরিকল্পনা ঘোষণা না করলে আমরা ভোট দেব না’, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলো কী করবে? সবারই তো ভোট দরকার। নাগরিকদের এটাই শক্তি—এ শক্তি কাজে লাগান।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোড়ন

হামিনের পোস্ট প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি সংগীতাঙ্গন ও সাধারণ দর্শকের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। মন্তব্যে সমর্থন জানাতে থাকেন শিল্পী, সুরকার, প্রযোজক এবং সংগীতনির্ভর তরুণরা।

সমর্থন জানানো উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বদের কিছু মন্তব্য:

শিল্পী/ব্যক্তিত্বপ্রতিক্রিয়া
বিপ্লব“সঠিক বলেছেন।”
আয়েশা মৌসুমী“ভালো প্রশ্ন, এখনই উদ্যোগ নিতে হবে।”
শেখ ইশতিয়াক (শিরোনামহীন)“সংগীত করে জীবন পার করতে চাই; এ দেশে সম্ভব না হলে অন্য দেশে।”
জন কবিরপোস্টটি শেয়ার করে সমর্থন জানান।
অদিত রহমানএকইভাবে শেয়ার করে উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

সংগীতশিল্পীদের অভিন্ন দাবি: রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা চাই

দেশের সংগীতশিল্পীরা মনে করছেন—বড় আকারের এই শিল্পকে বাঁচাতে ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে স্পষ্ট পরিকল্পনা জরুরি।
বর্তমানে সংগীতশিল্পীরা কপিরাইট সুরক্ষা, শিল্পীদের আর্থিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাজারে সংগীত রপ্তানি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংগীতশিক্ষা বিস্তারসহ বহু বিষয়ে সরকারি সহায়তার অপেক্ষায়।

সামগ্রিক বিশ্লেষণ

বাংলাদেশে সংগীত শিল্প কোটি মানুষের আবেগ-অভ্যাসের অংশ হলেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে ‘অদৃশ্য খাত’ হিসেবে পড়ে আছে। অথচ শিল্পীরা বলছেন, দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, সংস্কৃতিচর্চা ও আন্তর্জাতিক ইমেজ তৈরিতে সংগীতের গুরুত্ব অপরিসীম। ফলে নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগীতভিত্তিক নীতি দাবি এখন একটি নতুন জনমত তৈরির সুযোগ আনছে।

সংগীতপ্রেমী জনগোষ্ঠীর ভোটই হতে পারে এ দাবি বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় শক্তি—এমনটাই বিশ্বাস শিল্পী হামিন আহমেদের।