কক্সবাজার শহরের কলাতলী চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকায় বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে একটি এলপিজি গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় সময়, গ্যাস লিকেজের কারণে পাম্পে আগুন লেগে ছড়িয়ে পড়লে মোট ১৬ জন দগ্ধ হন। আহতদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। গুরুতর অবস্থার ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা রেফার করা হয়েছে, আর ৭ জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
Table of Contents
বিস্ফোরণের কারণ ও দায়িত্ব
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, “শহরের আবাসিক এলাকায় অনুমতি ছাড়া গ্যাস পাম্প স্থাপন করা হচ্ছিল। গ্যাস লিকেজের কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে। মালিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পাম্পটির নাম কক্সবাজার ফিলিং স্টেশন। মালিক নূরুল আলম জানিয়েছেন, এটি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও চালু হয়নি এবং কয়েক দিনের মধ্যে উদ্বোধনের পরিকল্পনা ছিল। তবে অনুমতি ছাড়াই পাম্প স্থাপন করা হয়েছিল।
আগুন নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষয়ক্ষতি
বিস্ফোরণের পর কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীর ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। রাত ১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। বিস্ফোরণের সময় প্রায় ১৪,০০০ লিটার এলপিজি গ্যাস ট্যাংকে ছিল, যা সম্পূর্ণ নিঃশেষ হয়ে যায়।
প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা | ধ্বংস/ক্ষতির ধরন | আনুমানিক সংখ্যা |
|---|---|---|
| আবাসিক ভবন | আংশিক ক্ষতি | ১০টি বাড়ি |
| পর্যটক পরিবহন | জিপ গাড়ি | ২০–২৫টি |
| গ্যাস ট্যাংক | সম্পূর্ণ নিঃশেষ | ১৪,০০০ লিটার |
স্থানীয় বাসিন্দা তৌহিদুল ইসলাম জানান, “গ্যাসের তীব্র গন্ধে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। বিস্ফোরণের পর আগুন পাশের স্থাপনাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। স্টেশনটির আশপাশে আদর্শ গ্রাম, চন্দ্রিমা হাউজিং ও জেলখানা এলাকায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ বসবাস করে।”
চিকিৎসা ব্যবস্থা
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সবুকতাগিন মাহমুদ সোহেল বলেন, “আহতদের মধ্যে ছয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতদের ঢাকা ও চট্টগ্রামে রেফার করা হয়েছে।”
নিরাপত্তা ও সতর্কবার্তা
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ছমি উদ্দিন জানিয়েছেন, “উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে। স্থানীয় জনগণকে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে।”
এই বিস্ফোরণ একটি গুরুত্বপুর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে এসেছে, যা দেখিয়েছে অনুমতি ছাড়া গ্যাস পাম্প স্থাপন কতটা বিপজ্জনক। এর প্রভাব শুধুমাত্র মালিক নয়, আশপাশের পুরো কমিউনিটিকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে।
