ওয়েস্ট ইন্ডিজের চারে চার, জোসেফের রেকর্ড

ইডেন গার্ডেনে অনুষ্ঠিত টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইতালিকে ৪২ রানে হারিয়ে গ্রুপ পর্বের শীর্ষে থেকে সুপার এইটে প্রবেশ নিশ্চিত করল। এই জয়ে আলোচনায় এলেন ক্যারিবীয় পেসার শামার জোসেফ, যিনি একটি ম্যাচে অসাধারণ ফিল্ডিং ও বোলিং দেখিয়ে নতুন রেকর্ড গড়লেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬৫ রান তুলেছিল। অধিনায়ক শাই হোপ ৭৫ রানে দলের স্কোরকে দৃঢ় ভিত্তিতে স্থাপন করেন। ব্যাটিং তালিকায় রোস্টন চেজ ২৪ এবং শেরফান রাদারফোর্ড ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন। প্রথম ১০ ওভার শেষে স্কোর ছিল ২ উইকেটে ৭৬, আর শেষ ১০ ওভারে আরও ৮৯ রান যোগ করে দলকে সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছে দেন।

ইতালি তাড়া করতে নেমে পাওয়ার প্লেতে মাত্র ৩৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল। ওপেনিং জুটি ভাঙেন জোসেফের সহকর্মী ম্যাথু ফোর্ড, দ্বিতীয় ওভারে জাস্টিন মস্কাকে ফিরিয়ে দেন। পরের ওভারে স্পিনার আকিল হোসেন অ্যান্থনি মস্কাকে আউট করেন। এরপর সাইদ নাকভিও ফোর্ডের শিকার হন।

ইতালির ব্যাটসম্যানরা চাপ সামলাতে পারলেও কোনো জুটি ২৫ রানের বেশি রানের অবদান রাখতে পারেনি। সর্বোচ্চ রান আসে বেন মানেন্তি’র ব্যাট থেকে – ২৬। ১২তম ওভারে স্মাটস আউট হওয়ার পর ইতালি ধীরে ধীরে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে। শেষ ৬ ওভারে জয়লাভের জন্য প্রয়োজন ছিল ৭২ রান, হাতে ছিল ৫ উইকেট, কিন্তু তারা পুরো ২০ ওভারও খেলতে পারেনি।

শামার জোসেফের রেকর্ড

জোসেফ ৪২ রানে ৪ উইকেট নেন এবং ফিল্ডিংয়ে ৪টি ক্যাচ নেন। এই কীর্তি তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ছেলে-মেয়েদের টি–টুয়েন্টি মিলিয়ে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এক ম্যাচে ৪ উইকেট নেওয়া ও ৪টি ক্যাচ নেওয়ার গৌরব এনে দেয়। এছাড়া, টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে উইকেটকিপারদের বাইরে ফিল্ডার হিসেবে চার ক্যাচ নেওয়া পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবেও তিনি ইতিহাসে নাম লেখান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

দলওভাররানের সংখ্যা/উইকেটশীর্ষ রানশীর্ষ বোলার
ওয়েস্ট ইন্ডিজ২০১৬৫/৬হোপ ৭৫, চেজ ২৪, রাদারফোর্ড ২৪*মানেন্তি ২/৩৭, কালুগামাগে ২/২৫
ইতালি১৮১২৩মানেন্তি ২৬, স্মাটস ২৪, মস্কা ১৯জোসেফ ৪/৩০, ফোর্ড ৩/১৯, মোতি ২/২৪

ফলাফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪২ রানে জয়ী
ম্যাচসেরা: শাই হোপ (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

এই জয়ের মাধ্যমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ চার ম্যাচে চার জয় নিয়ে ৮ পয়েন্টে গ্রুপ পর্বের শীর্ষে থেকে সুপার এইটে প্রবেশ করল। ইতালি ৪ ম্যাচে ১ জয়ে ২ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে থাকল এবং তাদের টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হল।

শামার জোসেফের এই অসাধারণ পারফরম্যান্স কেবল ম্যাচের ফলাফলকে প্রভাবিত করেনি, বরং ফিল্ডিং ও বোলিং দুই দিকেই নতুন ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছে।