ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। গত শুক্রবার উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে নৌ-অভিযান ও হামলার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তোলে। এতে অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং চলমান যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনার ওপর চাপ সৃষ্টি হয়।
ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারসের বরাতে জানা যায়, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ শাখা ওমান উপসাগরে ‘ওশান কোই’ নামের একটি তেলের ট্যাংকার জব্দ করেছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, জাহাজটি তাদের তেল রপ্তানি কার্যক্রম ও জাতীয় স্বার্থে বাধা সৃষ্টি করছিল। বার্বাডোসে নিবন্ধিত এই জাহাজে ইরানি বাহিনীর ওঠার একটি ভিডিও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনী ওমান উপসাগরে ইরানি পতাকাবাহী দুটি তেলের ট্যাংকারকে অচল করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ কমান্ড জানায়, ওই জাহাজ দুটি ইরানের বন্দরে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ডার এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ কার্যকর রাখতে তাদের বাহিনী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এর কিছু ঘণ্টা আগে হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে দুই পক্ষই পৃথকভাবে দাবি করে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানি বাহিনী তিনটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে ইরানের সামরিক কমান্ডাররা পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি তেলবাহী ট্যাংকার ও আরেকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যাতে ইরানি নাবিকরা আহত ও নিখোঁজ হয়েছেন।
ইরানের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপের বেসামরিক এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা জবাবে ইরানি বাহিনী হরমুজ প্রণালির পূর্বাঞ্চল ও চাবাহার বন্দরের দক্ষিণে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র এসব ঘটনার মাত্রাকে সীমিত সংঘর্ষ হিসেবে উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের সারসংক্ষেপ
| পক্ষ | ঘটনা | স্থান | দাবি/অভিযোগ |
|---|---|---|---|
| ইরান | একটি তেলের ট্যাংকার জব্দ | ওমান উপসাগর | জাহাজটি জাতীয় স্বার্থে হুমকি তৈরি করছিল |
| যুক্তরাষ্ট্র | দুটি ট্যাংকার অচল করার দাবি | ওমান উপসাগর | ইরানি বন্দরে প্রবেশ ঠেকানো হয়েছে |
| ইরান | যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ | কেশম দ্বীপ ও আশপাশ | বেসামরিক এলাকায় বিমান হামলা |
| যুক্তরাষ্ট্র | ইরানের হামলার অভিযোগ | হরমুজ প্রণালি | মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে হামলা |
| ইরান | পাল্টা সামরিক প্রতিক্রিয়ার দাবি | চাবাহার ও পূর্বাঞ্চল | মার্কিন জাহাজে পাল্টা হামলা |
এদিকে কূটনৈতিক পর্যায়ে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চলমান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, শান্তি প্রস্তাব নিয়ে তারা ইরানের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় আছেন। একই সময়ে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ইরান জানিয়েছে, তারা মার্কিন প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে এবং যেকোনো আক্রমণের জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর ঘিরে নতুন নৌনীতি প্রণয়নের কথাও জানিয়েছে ইরান, যার মাধ্যমে ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের ওপর নতুন নিয়ন্ত্রণ কাঠামো চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।