এলপিজি আমদানি বৃদ্ধি, দাম অস্থিরই রয়ে গেছে

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের আমদানি চলতি মাসে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেলেও খুচরা বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব এখনো সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়নি। রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভোক্তারা এখনো নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকেরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে যে চাপ সৃষ্টি হয়েছিল, তার অভিঘাত এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির ২১ তারিখ পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর দিয়ে মোট ৯১ হাজার টন গ্যাস আমদানি হয়েছে। জানুয়ারির একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৬৩ হাজার টন। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে প্রায় ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। সীতাকুণ্ডের বেসরকারি জেটিগুলোতে সাধারণত মাসে আরও ২০ থেকে ২২ হাজার টন গ্যাস খালাস হয়। দেশে দৈনিক গড় চাহিদা প্রায় ৫ হাজার টন। এ হিসেবে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির আভাস মিললেও তা এখনো খুচরা পর্যায়ে পুরোপুরি পৌঁছেনি।

নিম্নে সাম্প্রতিক আমদানি পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—

বিবরণপরিমাণ
ফেব্রুয়ারি (২১ তারিখ পর্যন্ত) আমদানি৯১,০০০ টন
জানুয়ারি (একই সময়) আমদানি৬৩,০০০ টন
বৃদ্ধির হারপ্রায় ৪৪ শতাংশ
গড় দৈনিক চাহিদাপ্রায় ৫,০০০ টন
গত অর্থবছরে মোট আমদানি১৭,৫৪,০০০ টন

সরকার ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের মূল্য ১,৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করলেও ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তা ১,৬০০ থেকে ১,৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জানুয়ারিতে তীব্র সংকটের সময় এই মূল্য ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকায় পৌঁছেছিল। আমদানিকারকেরা দাবি করছেন, তারা নির্ধারিত দামে পণ্য সরবরাহ করছেন; তবে খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত মুনাফা যোগ করার অভিযোগ রয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত নভেম্বর মাসে আমদানি প্রায় ৪৪ শতাংশ কমে যাওয়ায় বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণে কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান সময়মতো আমদানি বাড়াতে পারেনি। ফলে সরবরাহ ঘাটতি তীব্র হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে নীতিগত সমন্বয়ের মাধ্যমে আমদানির গতি বাড়ানো হলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার পথে আসে।

বর্তমানে এ খাতে ২৮টি প্রতিষ্ঠান সক্রিয়, যার মধ্যে ২৩টির আমদানির অনুমোদন রয়েছে। চলতি অর্থবছরে ১৬টি প্রতিষ্ঠান সক্রিয়ভাবে আমদানি করেছে এবং এর মধ্যে ৯টি কোম্পানি মোট সরবরাহের প্রায় ৯২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহ করে বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আমদানির এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে শিগগিরই সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং মূল্যও স্থিতিশীল পর্যায়ে ফিরে আসবে। তবে খুচরা বাজারে কঠোর তদারকি ছাড়া ভোক্তারা কাঙ্ক্ষিত সুফল নাও পেতে পারেন।