যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যায় ২০ জনের বেশি মানুষের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় সময় শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে দুর্গম এলাকায় হঠাৎ বন্যার পানি নেমে আসার পর তাদের সন্ধানে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। একই ঘটনায় বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পথ ও সেতু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন ও ফ্যান্টম রেঞ্চ এলাকায় আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত হয়। বন্যার পর ২০ জনের বেশি মানুষের অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে কোনো তথ্য জানা থাকলে পার্ক কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের জননিরাপত্তা বিভাগের সহযোগিতায় গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ন্যাশনাল পার্কের কর্মীরা দুর্গত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে যেসব মানুষ এখনো ওই এলাকায় আটকা পড়ে আছেন, তাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৬২ জনকে ইতোমধ্যে বিপদসংকুল এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চলাচলের পথ
গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের অভ্যন্তরীণ অংশে কলোরাডো নদীর তীরে অবস্থিত ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন ও ফ্যান্টম রেঞ্চ পর্যটকদের কাছে পরিচিত হলেও এসব এলাকা অত্যন্ত দুর্গম। সেখানে হাইকিং ও ব্যাকপ্যাকিং করতে যাওয়া পর্যটকদের অনেক সময় দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। আকস্মিক বন্যার কারণে ওই অঞ্চলের চলাচলব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বন্যার প্রবল স্রোতে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিকের ওপর থাকা প্রায় সব পায়ে হাঁটার সেতু ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে ওই জলধারা পার হয়ে হাইকারদের চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির কারণে ফ্যান্টম রেঞ্চ, ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যাম্পগ্রাউন্ড এবং পুরো নর্থ কাইবাব ট্রেইল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে পার্ক কর্তৃপক্ষ।
কটনউড ক্যাম্পগ্রাউন্ড ও ফ্যান্টম রেঞ্চ এলাকায় অবস্থানরত আরও মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে সেখানে অবস্থানরত কোনো হাইকার বা ব্যাকপ্যাকার সম্পর্কে তথ্য থাকলে তা দ্রুত জানানোর অনুরোধ করেছে।
হেলিকপ্টারে সরিয়ে নেওয়া হয় পর্যটকদের
বন্যার সময় গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে থাকা এক হাইকার ডেভিড গ্রেগরি জানান, তিনি একটি ছোট দলের সঙ্গে সেখানে হাইকিংয়ে গিয়েছিলেন। আকস্মিক বন্যা শুরু হলে তাদের পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষসহ পানির স্রোত দ্রুত তাদের দিকে এগিয়ে আসছিল। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে হেলিকপ্টারে করে তাদের কাছের একটি স্কুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং রাতের দিকে একটি হোটেলে পৌঁছে দেওয়া হয়।
বন্যার কারণে গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের অভ্যন্তরে শুধু স্থলপথ নয়, নদীপথের চলাচলও সীমিত করা হয়েছে। কলোরাডো নদীর ওপর থাকা ব্ল্যাক ব্রিজ ও সিলভার ব্রিজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কলোরাডো নদীতে সব ধরনের নৌযান চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার পানির সঙ্গে ধাতব কাঠামো ও বিভিন্ন ধরনের ধ্বংসাবশেষ নদীতে এসে পড়েছে। এতে নৌযান চলাচলে নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নদীতে চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের আশঙ্কা
উদ্ধার তৎপরতার মধ্যেই আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক রয়েছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। সোমবার পর্যন্ত ওই অঞ্চলে আরও বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নতুন করে আকস্মিক বন্যা, ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ এবং পাহাড়ি এলাকায় পাথর ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের মতো দুর্গম এলাকায় আকস্মিক বন্যা বিশেষভাবে বিপজ্জনক। কারণ সেখানে সরু গিরিখাত ও জলধারার আশপাশে থাকা মানুষ খুব অল্প সময়ের মধ্যে দ্রুতগতির পানির স্রোতের মুখে পড়তে পারেন। একই সঙ্গে বন্যার পানির সঙ্গে পাথর, গাছপালা ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ ভেসে আসায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
এদিকে, নেপালের পাহাড়ি এলাকাতেও সাম্প্রতিক সময়ে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে বড় ধরনের প্রাণহানির খবর এসেছে। গত সপ্তাহের মাঝামাঝি শুরু হওয়া ওই দুর্যোগে ৭৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং ৩ হাজারের বেশি মানুষের নিখোঁজ থাকার তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।









