এনসিপির কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি, মোটরসাইকেল ছিনতাই করে পালাল দুর্বৃত্তরা

গাজীপুরের জোগিতলা এলাকায় আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এনসিপির এক কর্মীকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা গুলি চালিয়েছে।幸থাপি, তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন। দুর্বৃত্তরা ওই কর্মীর মোটরসাইকেলটি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

ঘটনাস্থল ও পরিচিতি অনুযায়ী, গুলি করা ব্যক্তি হলেন হাবিব চৌধুরী (২৫)। তিনি গাজীপুর নগরের বাসন থানার মুগর খাল (৭১ গলি) এলাকায় বসবাস করেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার ব্রাহ্মণবাউগা গ্রামে। হাবিব চৌধুরী এনসিপির একজন সক্রিয় কর্মী এবং স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে পরিচিত মুখ।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, হাবিব তাঁর পুরোনো মোটরসাইকেল বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। আজ দুপুরে দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেল কেনার আগ্রহ দেখিয়ে জোগিতলা এলাকায় তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী:

তথ্যবিবরণ
ভুক্তভোগীর নামহাবিব চৌধুরী (২৫)
ঠিকানামুগর খাল (৭১ গলি), বাসন থানা, গাজীপুর নগর
গ্রামের বাড়িব্রাহ্মণবাউগা, সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ
ঘটনার স্থানজোগিতলা, গাজীপুর নগর
সময়বৃহস্পতিবার, দুপুর ১২:৩০ টার দিকে
ঘটনামোটরসাইকেল দেখার অজুহাতে দু’জন ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়েন
ফলাফলহাবিব অল্পের জন্য বেঁচে যান; মোটরসাইকেল ছিনতাই হয়
দোষীদের সংখ্যা২ জন

হাবিব চৌধুরী বলেন, “মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে তারা আমার সঙ্গে দেখা করেছে। টেস্ট করার অজুহাতে একজন উঠে পড়ে এবং অন্যজন আমাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। সৌভাগ্যক্রমে গুলি আমার কানের পাশ দিয়ে চলে গেছে। কিন্তু তারা আমার মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে গেছে।”

এ ঘটনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আলী নাছ ফেসবুক লাইভে বলেন, “হাবিব চৌধুরী একজন সাহসী নেতা। তাকে ফাঁদে ফেলিয়ে গুলি করা হয়েছে। শহীদ ওসমান হাদিকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছিল, আজ একইভাবে তাঁর ওপরও হত্যাচেষ্টা হয়েছে। যারা জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছে, তারা নিরাপদ নয়। আমরা ১২ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তাহেরুল হক চৌহান জানান, “ঘটনাটি মোটরসাইকেল কেনাবেচা নিয়ে হয়েছে। হাবিব অল্পের জন্য গুলিবিদ্ধ হননি। আমরা ইতিমধ্যেই দুর্বৃত্তদের ধরতে অভিযান শুরু করেছি এবং আশা করছি, দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

এই ঘটনায় স্থানীয়রা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। ঘটনার তদন্ত চলছে, পুলিশ এলাকাবাসীর সাহায্য ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার পুরো বিবরণ বের করতে কাজ করছে।