একের পর হামলা ও হত্যাকাণ্ড: প্রশাসন কেন ‘নির্লিপ্ত’?

গত কয়েকদিনে দেশে একের পর এক সহিংসতা এবং হত্যাকাণ্ডে প্রশাসনের সক্রিয়তার অভাব নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর গণমাধ্যমের অফিসে হামলা, ময়মনসিংহে হিন্দু যুবকের পিটিয়ে হত্যা এবং লক্ষ্মীপুরে একটি শিশু মৃত্যুসহ আগুনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্লিপ্ত ভুমিকা অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর বাংলাদেশে পৌঁছার পর রাজধানীর শাহবাগে তার রাজনৈতিক সহকর্মীরা জড়ো হন। রাত ১১টার দিকে তারা কারওয়ান বাজারে গিয়ে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার অফিসে হামলা চালায়। ভাঙচুর ও লুটপাটের পরে আগুন ধরানো হয়। এরপর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ছায়ানট ভবনে হামলা চালানো হয়, সাংস্কৃতিক সরঞ্জাম লুট হয়। পরদিন উদীচীর ঢাকা অফিসেও হামলা ও ভাঙচুর হয়।

ছায়ানটের সভাপতি ডা. সারওয়ার আলী বলেন, “আমরা আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক করেছিলাম। তবুও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।” উদীচী সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে বলেন, “হামলার ঘোষণা আগেই দেওয়া হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেন ব্যবস্থা নিল না, তা প্রশ্নের বিষয়।”

প্রধান প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া:

  • প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সেক্রেটারি ফয়েজ আহম্মদ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে পুলিশ ইতিমধ্যেই দুইজনকে আটক করেছে এবং ৩০ জনকে শনাক্ত করেছে।

  • অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমান পুলিশিং পদ্ধতি আগের মত নয়। লাঠিচার্জ বা ক্রসফায়ার ছাড়াই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

  • নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, যৌথ অভিযান দ্রুত শুরু হবে এবং কাউকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে সুযোগ দেওয়া হবে না।

ময়মনসিংহে হত্যাকাণ্ড:

  • হিন্দু যুবক দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও গাছে বেঁধে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

  • ভিডিও বিশ্লেষণে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

  • নিহতের দেড় বছরের কন্যা সন্তান রয়েছে।

লক্ষ্মীপুরে আগুনে শিশু মৃত্যু:

  • বিএনপি নেতা বেলাল হোসেনের ঘরে আগুন, ৭ বছর বয়সী মেয়ে আয়েশা আক্তার নিহত।

  • বাবা ও দুই মেয়ে দগ্ধ।

  • পুলিশ নাশকতার প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানিয়েছে।

মূল অভিযোগ:

  • আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্লিপ্ত ছিল এবং হামলার আগে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

  • আন্তর্জাতিক মহলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা।

বিবেচনায় আসে, একের পর এক সহিংসতার ঘটনার সময় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ ও সমন্বিত তৎপরতা ছাড়া গণমাধ্যম, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইতিমধ্যেই এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।