স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোপীয় সুপার লিগ প্রকল্প থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। শনিবার এক বিবৃতিতে কাতালান ক্লাবটি জানিয়েছে, তারা ইউরোপীয় সুপার লিগ কম্পানি ও সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোর কাছে লিখিতভাবে তাদের সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকা সুপার লিগ প্রকল্পে নতুন করে বড় ধাক্কা লেগেছে। ২০২১ সালে ইউরোপের ১২টি শীর্ষ ক্লাবের অংশগ্রহণে যাত্রা শুরু করলেও ভক্ত ও সমালোচনার চাপের মুখে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ‘বিগ সিক্স’—আর্সেনাল, চেলসি, লিভারপুল, ম্যানচেস্টার সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও টটেনহাম হটস্পার—দ্রুতই প্রকল্প থেকে সরে যায়। পরে আতলেতিকো মাদ্রিদ, ইন্টার মিলান, এসি মিলান এবং জুভেন্টাসও তাদের নাম প্রত্যাহার করে। ফলশ্রুতিতে দীর্ঘদিন কেবল রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনাই প্রকল্পের মুখ হিসেবে রয়ে যায়। এখন বার্সেলোনা সরে যাওয়ায় কার্যত একাই রিয়াল মাদ্রিদ দাঁড়িয়ে রইল।
বার্সেলোনার সিদ্ধান্তের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে উয়েফা এবং ইউরোপীয় ফুটবল ক্লাবস অ্যাসোসিয়েশনের (ইএফসি) সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ। ক্লাব সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা আগেই জানিয়েছেন, তিনি উয়েফার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের পথে হাঁটতে চান। অক্টোবর মাসে রোমে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সেই পরিকল্পনার কথাও নিশ্চিত করেন তিনি।
বার্সেলোনা তাদের বিবৃতিতে জানায়,
“ক্লাবের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ এবং ইউরোপীয় ফুটবলের কাঠামোর ভেতরে থেকে কাজ করার লক্ষ্য বিবেচনায় নিয়ে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
সুপার লিগ প্রকল্প প্রথমবার ব্যর্থ হওয়ার পর ২০২৪ সালে ‘ইউনিফাই লিগ’ নামে নতুনভাবে তা পুনরায় চালু করার চেষ্টা করা হয়। উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান এ-২২ স্পোর্টস উয়েফা ও ফিফার কাছে নতুন প্রতিযোগিতা আয়োজনের স্বীকৃতির জন্য আবেদনও করে। তবে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ইউরোপীয় আদালত জানিয়েছিল, নতুন প্রতিযোগিতা আয়োজনের ক্ষেত্রে উয়েফা ও ফিফার বিধিনিষেধ ‘আধিপত্যের অপব্যবহার’ হিসেবে গণ্য হতে পারে। উয়েফা পরে দাবি করে, ২০২১ সালের পর যে নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছে, তা ইউরোপীয় আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন ফরম্যাট—৩৬ দলের ‘সুইস মডেল’ লিগ এবং রাজস্ব বণ্টনের পরিবর্তন—বেশিরভাগ ক্লাবের কাছে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। ফলে সুপার লিগ বা ইউনিফাই লিগের প্রতি আগ্রহ কমে গেছে।
সুপার লিগ ইস্যুতে দীর্ঘদিন বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ মিত্র থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে ‘নেগ্রেইরা কেস’ নিয়ে বার্সেলোনার বিরুদ্ধে তদন্তে রিয়াল মাদ্রিদের কঠোর অবস্থান এই দূরত্বের অন্যতম কারণ। ২০০১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে স্পেনের রেফারিদের কমিশনের এক সাবেক কর্মকর্তাকে বার্সেলোনার অর্থপ্রদান সংক্রান্ত বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন।
ইউরোপীয় সুপার লিগের প্রধান ক্লাবের অবস্থান (২০২১–২০২৬)
| ক্লাব | প্রথম চুক্তি | বর্তমান অবস্থান | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| বার্সেলোনা | ২০২১ | সরে দাঁড়িয়েছে | উয়েফা সম্পর্ক পুনঃস্থাপন প্রধান কারণ |
| রিয়াল মাদ্রিদ | ২০২১ | এখনও আছে | একা প্রকল্পের মুখে রয়ে গেছে |
| আর্সেনাল | ২০২১ | সরে গেছে | ভক্ত বিক্ষোভের কারণে |
| চেলসি | ২০২১ | সরে গেছে | |
| লিভারপুল | ২০২১ | সরে গেছে | |
| ম্যানচেস্টার সিটি | ২০২১ | সরে গেছে | |
| ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড | ২০২১ | সরে গেছে | |
| টটেনহাম হটস্পার | ২০২১ | সরে গেছে | |
| আতলেতিকো মাদ্রিদ | ২০২১ | সরে গেছে | |
| ইন্টার মিলান | ২০২১ | সরে গেছে | |
| এসি মিলান | ২০২১ | সরে গেছে | |
| জুভেন্টাস | ২০২১ | সরে গেছে |
