দুই বারের সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য ঋতুপর্ণা চাকমার বাড়ি নির্মাণ সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে তিনি সরকারি সফরে তুরস্কে অবস্থান করলেও বিষয়টির অগ্রগতি নিশ্চিত করতে একটি প্রতিনিধি দল রাঙামাটিতে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিনিধি দলটি সরেজমিনে রাঙামাটিতে গিয়ে ঋতুপর্ণা চাকমার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে। তারা দীর্ঘ সময় ধরে বাড়ি নির্মাণ কার্যক্রম কেন শুরু হয়নি, সেই বিষয়ে বাস্তব কারণ জানার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যমান প্রশাসনিক ও জমি-সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতাগুলোও যাচাই করা হয়।
এই প্রতিনিধি দলে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সচিব এস এম আশরাফ এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের একজন কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তারা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করা বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় জমি বরাদ্দ, প্রশাসনিক অনুমোদন এবং কার্যক্রম বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
প্রেস সচিব এস এম আশরাফ জানান, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফি জানিয়েছেন যে, বাড়ি নির্মাণের জন্য প্রশাসনিকভাবে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হলেও জমি বন্দোবস্ত সংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে পুরো প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এই কারণে নির্মাণ কার্যক্রম শুরুতে বিলম্ব ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ঋতুপর্ণা চাকমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ১২ শতক খাসজমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দ পাওয়ার পর তিনি নিজে ওই জমি পরিদর্শনও করেন। তবে পরবর্তী সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়ার কারণে জমির দখল হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। এর ফলে প্রকল্পের বাস্তবায়ন পর্যায় থমকে যায়।
পার্বত্য অঞ্চলের জমি বরাদ্দ ও ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশাসনিক অনুমোদন ও সমন্বয় প্রয়োজন হয়। এই ধরনের প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে অনেক সময় নির্ধারিত উন্নয়ন কার্যক্রম বিলম্বিত হয়ে থাকে। ঋতুপর্ণার বাড়ি নির্মাণ প্রকল্পেও একই ধরনের প্রশাসনিক সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
প্রতিনিধি দলটি রাঙামাটি সফর শেষে জানিয়েছে, তারা মাঠপর্যায়ে প্রাপ্ত সব তথ্য, স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য এবং বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতার বিস্তারিত বিবরণ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনে সংকলন করবে। এই প্রতিবেদন দ্রুততম সময়ের মধ্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হবে।
প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে ঋতুপর্ণা চাকমার বাড়ি নির্মাণ সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনের উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হবে।
ঋতুপর্ণা চাকমা বাংলাদেশের নারী ফুটবলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা একজন খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত। জাতীয় পর্যায়ে তার কৃতিত্ব এবং আন্তর্জাতিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকারের পক্ষ থেকে তার আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা দেখা দেয়।
বর্তমান উদ্যোগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দ্রুতই নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। এতে করে দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
