ঋণের চাপে গরু চুরি: বাধা দেওয়ায় কৃষক নিহত

নেত্রকোনা সদর উপজেলার নাড়িয়াপাড়া গ্রামে ঋণের চাপ সামলাতে গরু চুরি করার চেষ্টা চলাকালে স্বামীকে হত্যার ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় কৃষক হেলাল উদ্দিন (৫৮) তার স্ত্রী বেদেনা আক্তার (৪০) এবং আরও চারজনের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেদেনা আক্তার বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় এক লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ঋণদাতাদের চাপ সামলাতে তিনি বাবার বাড়ির এলাকা বারহাট্টা উপজেলার সেমিয়া দুধকুড়া গ্রামের লিটন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং স্বামীর গোয়ালঘরের গরু চুরি করে বিক্রির পরিকল্পনা করেন।

গত শনিবার রাতের কোনো এক সময় লিটন মিয়া ও সদর উপজেলার রিয়েল মিয়া সহ আরও চারজন গরু চুরি করতে গেলে বিষয়টি হেলাল উদ্দিনের নজরে আসে। তিনি বাধা দিলে পাঁচজন মিলে তাকে মুখ ও হাত-পা বেঁধে হত্যা করেন। এরপর রবিবার ভোরে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ ও আদালতের তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রধান ছিলেন হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী বেদেনা আক্তার। ঘটনার তদন্তে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) চম্পক দাম জানিয়েছেন, বেদেনা আক্তারের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানে লিটন মিয়া ও রিয়েল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি মো. আল মামুন সরকার বলেন, “অল্প সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন ও মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।”

নিচের টেবিলে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের তথ্য সংক্ষেপে দেখানো হলো:

নামবয়সগ্রাম/ঠিকানাঅবস্থানমন্তব্য
হেলাল উদ্দিন৫৮নাড়িয়াপাড়া, নেত্রকোনানিহতমৃত, কৃষক
বেদেনা আক্তার৪০নাড়িয়াপাড়া, নেত্রকোনাগ্রেপ্তারস্বামী হত্যা স্বীকার
লিটন মিয়া৫০সেমিয়া দুধকুড়া, বারহাট্টাগ্রেপ্তার৫টি চুরির মামলা আছে
রিয়েল মিয়া৪০নাড়িয়াপাড়া, নেত্রকোনাগ্রেপ্তারহত্যাকাণ্ডে সহযোগী

এই ঘটনাটি স্থানীয় সমাজে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মামলা অনুসারে হেলাল উদ্দিনের ছোট ভাই রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত আছে।