ঋণখেলাপি প্রার্থীর সংখ্যা ৩১, অর্ধেক বিএনপি’র

বাংলাদেশে আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঋণখেলাপি হওয়া সত্ত্বেও ৩১ জন প্রার্থী বৈধতা পেয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তারা আদালতের স্থগিতাদেশ বিবেচনায় নিয়ে এদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন। এদের মধ্যে ১৫ জন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, ১১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং বাকি বিভিন্ন দলের প্রার্থী।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরো (সিআইবি) অনুযায়ী, এই ৩১ প্রার্থী দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে খেলাপি হয়েছেন। তবে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ পাওয়ায় তারা নির্বাচনী বাছাইয়ে টিকে গেছেন।

এবারের নির্বাচনে সারাদেশে ৩০০ আসনে মোট ২,৫৬৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বাছাই শেষে ঋণখেলাপির কারণে ৮২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য কারণে ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে ১,৮৪২ প্রার্থীর। বৈধ ও অবৈধ মনোনয়নপত্রের বিরুদ্ধে আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিলের সুযোগ রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, ঋণখেলাপি ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরও ঋণখেলাপির তথ্য প্রকাশ পেলে পদ হারাতে হতে পারে। নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

নিম্নলিখিত টেবিলে ঋণখেলাপি হওয়ার পরও নির্বাচনে টিকে যাওয়া প্রার্থীদের সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হলো:

প্রার্থী প্রকারসংখ্যাউল্লেখযোগ্য আসন ও প্রার্থী উদাহরণ
বিএনপি১৫বগুড়া-১ কাজী রফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম-২ সরোয়ার আলমগীর, সিলেট-১ খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর
স্বতন্ত্র১১যশোর-৫ মো. কামরুজ্জামান, ময়মনসিংহ-১০ মো. মুশফিকুর রহমান, চাঁদপুর-২ তানভীর হুদা
জাতীয় পার্টিমানিকগঞ্জ-২ এসএম আব্দুল মান্নান
ইসলামী আন্দোলনবাগেরহাট-১ মুজিবুর রহমান শামীম
বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টিনারায়ণগঞ্জ-৪ মোহাম্মদ আলী

বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি, জামায়াত ছাড়াও জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (চরমোনাই পীরের দল), গণঅধিকার পরিষদ, জেএসডি, এলডিপি, কমিউনিস্ট পার্টি ও বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রার্থীরা রয়েছেন। বিএনপির তিনটি আসনে প্রার্থিতা বাতিল হলেও বিকল্প প্রার্থী মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে।

এই পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ এবং আরপিও-এর প্রণয়ন প্রক্রিয়া নির্বাচনী মাঠে প্রার্থীদের অংশগ্রহণকে প্রভাবিত করেছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের ঋণ পরিস্থিতি ও ব্যাংক তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া দেশের নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।