রাজধানীর উত্তরা এলাকায় সোমবার দুপুরের পর সড়ক পারাপারের সময় একটি দ্রুতগামী বাসের ধাক্কায় মো. পরশ মিয়া (৫৫) নামে একজন কৃষক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কৃষি সম্প্রদায় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পরশ মিয়া ছিলেন পরিশ্রমী কৃষক এবং পরিবারে তিন মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন। নিহতের আকস্মিক মৃত্যু এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে।
Table of Contents
দুর্ঘটনার বিবরণ
নিহতের ভাগনে মো. জামাল হোসেন জানিয়েছেন, সকালে পরশ মিয়া বাড়ি থেকে বিজয় সরণিতে তাঁর এক ভাগনের বাসায় যান। সেখান থেকে উত্তরার চালাবনের ভাড়া বাসায় ফেরার পথে আজমপুর এলাকায় একটি গাড়ি থেকে নামেন। উত্তরা পূর্ব থানার সামনের ব্যস্ত সড়ক পার হওয়ার সময় একটি অজ্ঞাতপরিচয় দ্রুতগামী বাস তাঁকে ধাক্কা দেয়। এতে পরশ মিয়া সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে প্রথমে কুয়েত–বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে পরিবার ও স্বজনদের খবর দেওয়া হয়। বেলা পৌনে তিনটার দিকে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়, কিন্তু চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানিয়েছেন, “মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধাক্কা বাসের কারণে দুর্ঘটনা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।”
নিহতের পরিচয় ও পরিবার
পরশ মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মধ্যনগর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি মৃত সামাদ সরকারের ছেলে। বর্তমানে তিনি উত্তরার চালাবন এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তাঁর মৃত্যুতে স্থানীয় কৃষি সম্প্রদায় ও প্রতিবেশীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
সড়ক দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট
উত্তরার ব্যস্ত সড়কগুলোতে পদচারী এবং যানবাহনের চলাচল প্রায়ই সংঘর্ষজনক। দ্রুতগতির বাস ও অপরিকল্পিত সড়ক পারাপারের কারণে প্রতি বছর বহু দুর্ঘটনা ঘটে। নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার অভাব এবং যানবাহনের অযত্ন এই ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উত্তরা দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহত ব্যক্তি | মো. পরশ মিয়া (৫৫) |
| জন্মস্থান | মধ্যনগর, বাঞ্ছারামপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া |
| বসবাসস্থল | চালাবন, উত্তরা, ঢাকা |
| পরিবার | স্ত্রী, ৩ মেয়ে, ১ ছেলে |
| দুর্ঘটনার সময় | সোমবার, দুপুরের পর, সড়ক পারাপারকালে |
| দুর্ঘটনার স্থান | উত্তরা পূর্ব থানার সামনের সড়ক, আজমপুর এলাকা |
| আহত ও মৃত ঘোষণা | কুয়েত–বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল → ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
| তদন্ত | স্থানীয় থানা ও হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ি জানানো হয়েছে |
উত্তরা এলাকার স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, দুর্ঘটনার পর থেকে সড়ক নিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে সতর্কতা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। নিহত কৃষকের মৃত্যু স্থানীয়ভাবে সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
