উখিয়ায় ইয়াবাসহ চোরাকারবারি আটক

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ১ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেটসহ একজন চোরাকারবারিকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তির নাম মো. সাদেক হোসেন (২০)। তিনি উখিয়ার হাকিমপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক চোরাচালান রোধে বিজিবির তৎপরতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন (পিএসসি) জানান, বৃহস্পতিবার রাতে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবির বালুখালী বিওপি (বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট) এলাকার সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে টহল দল মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে তিনজন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখে। সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে।

এই সময় চোরাকারবারিরা একটি নেটের ব্যাগ ফেলে রেখে দ্রুত অন্ধকারের মধ্যে পালিয়ে যেতে চাইলেও বিজিবির সদস্যরা তৎপরতার সঙ্গে ধাওয়া করে একজনকে আটক করতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে ফেলে যাওয়া ব্যাগ তল্লাশি করে নীল রঙের বায়ুরোধী প্যাকেটে মোড়ানো অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে গণনা করে দেখা যায়, উদ্ধারকৃত ইয়াবার সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজার।

আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের হয়ে কাজ করছিলেন। সাদেক হোসেন স্বীকার করেন যে, রহমতের বিল এলাকার আব্দুর রহিম (৩২) নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি এই ইয়াবা বহনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। বিনিময়ে তাকে ৯ হাজার টাকা পারিশ্রমিক দেওয়ার কথা ছিল। বিজিবি কর্মকর্তাদের ধারণা, এই চক্রটি সীমান্তের ওপার থেকে ইয়াবা এনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে থাকে।

লে. কর্নেল মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, “সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক চোরাচালানকারীরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। তবে বিজিবির নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা আগের চেয়ে আরও জোরদার করা হয়েছে। মাদক কারবারিদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।” তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত ইয়াবা ও আটক ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হবে।

সীমান্ত নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই ইয়াবা চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। মিয়ানমার সীমান্তবর্তী হওয়ায় এই অঞ্চলে মাদক পাচারের চেষ্টা প্রায়ই লক্ষ্য করা যায়। এ কারণে বিজিবি নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে থাকে। সাম্প্রতিক এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা প্রমাণ করে, সীমান্তে কঠোর নজরদারি বজায় রাখলে বড় ধরনের মাদক চালান প্রতিহত করা সম্ভব।

স্থানীয় প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে। ফলে এই একটি অভিযানের মাধ্যমে শুধু একজন চোরাকারবারি আটকই নয়, বরং একটি বড় মাদকচক্রের কার্যক্রমে বড় ধাক্কা দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।