গাজা উপত্যকায় চলমান মানবিক বিপর্যয়ের জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করে তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব দিয়েছিলেন নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাসপার ভেল্দক্যাম্প। কিন্তু সরকারের জোটসঙ্গীদের তীব্র আপত্তির মুখে সেই প্রস্তাব কার্যকর না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
শনিবার (২৪ আগস্ট) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ভেল্দক্যাম্প জানান—“গাজায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের জন্য ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু জোটসঙ্গীদের আপত্তির কারণে তা অনুমোদিত হয়নি। এ অবস্থায় বুঝেছি, এই সরকারের অংশ হয়ে আমি নিজের ও দলের নীতি বাস্তবায়ন করতে পারব না। তাই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
৬১ বছর বয়সী ভেল্দক্যাম্প নেদারল্যান্ডসের সাবেক কূটনৈতিক কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রদূত ছিলেন। বর্তমানে তিনি ক্ষমতাসীন জোটের শরিক দল সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট পার্টি (এনএসসি)-এর শীর্ষ নেতাদের একজন।
তার পদত্যাগের পর এনএসসি প্রেসিডেন্ট এডি ভ্যান হিজাম ঘোষণা দেন যে তারাও আর সরকারের সঙ্গে থাকছে না। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন— “এক কথায় বলতে গেলে, এই সরকারের সঙ্গে আমাদের যাবতীয় সম্পর্ক শেষ।”
এটি প্রথমবার নয় যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে নেদারল্যান্ডস সরকারের জোটে ভাঙন দেখা দিল। গত জুনে অভিবাসন নীতি নিয়ে বিরোধের কারণে চরম দক্ষিণপন্থী রাজনীতিবিদ গ্রিট ওয়াইল্ডার্সের নেতৃত্বাধীন দল জোট থেকে সরে দাঁড়ায়। তখনই কার্যত চার দলীয় সরকার ভেঙে পড়ে।
পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আগামী অক্টোবর দেশটিতে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ততদিন পর্যন্ত ভেঙে পড়া এই জোট সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকা পালন করবে।
কিন্তু নির্বাচনের আগে মাত্র দুই মাসের মাথায় এবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগে সরকারের রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হলো।
সূত্র: আরটি, রয়টার্স
