ইরানের শতাধিক সামরিক স্থাপনায় ভয়াবহ হামলার দাবি ইসরাইলের

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বাহিনী ইরানি ভূখণ্ডে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনার পর পরিস্থিতি এক ভয়াবহ পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে মোড় নিয়েছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) দাবি অনুযায়ী, তারা ইরানের অভ্যন্তরে অন্তত ১০০টি কৌশলগত সামরিক স্থাপনায় নিখুঁত হামলা চালিয়েছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র, ড্রোন ঘাঁটি এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় করা।

ইসরাইলি অভিযানের প্রকৃতি ও লক্ষ্যবস্তু

ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তাদের যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে ব্যাপক তান্ডব চালিয়েছে। এই অভিযানে অত্যাধুনিক স্টিলথ ফাইটার জেট ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ইসরাইলের দাবি, তারা ইরানের সেইসব ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে যেখান থেকে এর আগে ইসরাইলের ওপর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল।

ইসরাইলের এই আগ্রাসনের জবাবে ইরানও হাত গুটিয়ে বসে নেই। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) পাল্টাপাল্টি হামলার মাধ্যমে এর কড়া জবাব দিচ্ছে। তেহরানের পক্ষ থেকে তৃতীয় দফার প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যার রেশ আছড়ে পড়ছে ইসরাইলের খোদ রাজধানী তেল আবিবে।

সংঘাতের ব্যাপ্তি ও বর্তমান চিত্র

নিচে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার চলমান এই বিধ্বংসী সংঘাতের প্রধান প্রধান লক্ষ্যবস্তু ও ক্ষয়ক্ষতির একটি তুলনামূলক সারণি দেওয়া হলো:

হামলার ধরনলক্ষ্যবস্তু ও অবস্থানক্ষয়ক্ষতির বিবরণ (দাবিকৃত)
ইসরাইলি বিমান হামলাইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় সামরিক ঘাঁটি১০০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনা ও ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র ধ্বংস।
ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রতেল আবিব, ইসরাইলরাজধানীজুড়ে বিকট বিস্ফোরণ ও জনমনে চরম আতঙ্ক।
ড্রোন ও প্রক্সি হামলামধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিআল-উদেয়িদ ও আল-ধাফরা ঘাঁটিতে অবকাঠামোগত ক্ষতি।
আঞ্চলিক সংঘাতসংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানআমিরাতে একজন নিহত এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত।

আঞ্চলিক অস্থিরতা ও আরব দেশগুলোর ভূমিকা

ইরান স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যেসব আরব দেশ তাদের আকাশসীমা বা ভূমি ব্যবহার করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করছে, তারা তেহরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে। এই হুমকির পরপরই উপসাগরীয় দেশগুলোতে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে উঠেছে। ইরানের মিসাইলগুলো ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি আরব রাষ্ট্রের স্পর্শকাতর এলাকায় আঘাত হেনেছে। এতে করে কেবল ইসরাইল নয়, বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য এখন একটি মহাপ্রলয়ের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবের মতো দেশগুলোতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে আঞ্চলিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাও চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানালেও, কোনো পক্ষই পিছু হটার লক্ষণ দেখাচ্ছে না।

তেহরানের কঠোর অবস্থান

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সামরিক হাই কমান্ড এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, “শত্রুদের চূড়ান্ত পরাজয় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই ন্যায়সঙ্গত লড়াই চলবে।” তারা এই যুদ্ধকে কেবল আত্মরক্ষা নয়, বরং সার্বভৌমত্ব রক্ষার চূড়ান্ত সংগ্রাম হিসেবে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, ইসরাইল দাবি করছে যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ‘আয়রন ডোম’ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বড় অংশ প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা; তেল আবিবসহ বড় শহরগুলোতে নিয়মিত বিরতিতে সাইরেন ও বিস্ফোরণের শব্দ যুদ্ধের ভয়াবহতাকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।