ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান মতভেদ ও উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক অধিকার সীমিত বা কেড়ে নেওয়ার কোনো বৈধ অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই।
ইরানি স্টুডেন্ট নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা যায়, পেজেশকিয়ান ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এই বক্তব্য দেন। ওই মন্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরান তার পারমাণবিক অধিকার ব্যবহার করতে পারবে না বলে ইঙ্গিত করা হয়েছিল।
এর জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট প্রশ্ন তোলেন, কোন অপরাধের ভিত্তিতে একটি দেশের পারমাণবিক অধিকার সীমিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, একটি সার্বভৌম জাতির অধিকার কেড়ে নেওয়ার অধিকার ট্রাম্পের কে দিয়েছে—এমন প্রশ্নও তিনি উত্থাপন করেন।
পারমাণবিক ইস্যুটি দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অন্যতম প্রধান বিরোধের বিষয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এই কর্মসূচি নিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন দেখা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে উত্তেজনা আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তার পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি আন্তর্জাতিক নিয়ম ও অধিকার অনুযায়ী পরিচালিত হওয়ার কথা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার কিছু মিত্র দেশ দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
এই প্রেক্ষাপটে পেজেশকিয়ানের মন্তব্যকে দুই দেশের চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনার একটি নতুন প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিচের টেবিলে বক্তব্য ও প্রেক্ষাপট সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| মন্তব্যকারীর নাম | মাসুদ পেজেশকিয়ান |
| পদবি | ইরানের প্রেসিডেন্ট |
| প্রতিক্রিয়ার কারণ | ডোনাল্ড ট্রাম্পের পারমাণবিক অধিকার সংক্রান্ত মন্তব্য |
| মূল বক্তব্য | ইরানের পারমাণবিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই |
| অভিযোগের প্রশ্ন | কোন অপরাধের ভিত্তিতে ইরানকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে |
| তথ্যসূত্র | ইরানি স্টুডেন্ট নিউজ এজেন্সি |
| প্রেক্ষাপট | ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও সাম্প্রতিক উত্তেজনা |
এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরানের অবস্থান আবারও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে তারা পারমাণবিক অধিকারকে জাতীয় সার্বভৌমত্বের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে এবং এ বিষয়ে বাহ্যিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করছে।
