ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রে ইসরায়েলজুড়ে আতঙ্ক

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তৃতীয় দিনে ইসরায়েলজুড়ে গভীর আতঙ্ক বিরাজ করছে। রবিবার রাত থেকে শুরু হওয়া এবং সোমবার সকালের মধ্যে তীব্রতর হয়ে ওঠা এই হামলা ইসরায়েলিদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তীব্র করে তুলেছে। বিশেষ করে বাঙ্কার বা আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া সত্ত্বেও স্বস্তি পাচ্ছে না সাধারণ নাগরিকরা।

ও অধিকৃত পশ্চিম তীরেও চরম আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। এই অঞ্চলে হোম ফ্রন্ট অ্যালার্ট সিস্টেম, বিমান হামলার অ্যালার্ম, আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সুরক্ষিত আশ্রয়কেন্দ্র নেই। ফলে এই এলাকার নাগরিকদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার রাতের প্রথম ভাগে ইরান ব্যাপক হামলা চালায়নি, কিন্তু সোমবার থেকে ভারী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শুরু করে। বিভিন্ন অঞ্চলে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে স্পষ্টভাবে বলা মুশকিল যে, শব্দগুলো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে নাকি সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রভাব।

রবিবার পশ্চিম জেরুজালেমের কাছে বেইত শেমেশ শহরের একটি সুরক্ষিত আশ্রয়কেন্দ্রে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে অন্তত নয়জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে এবং আহত হয়েছে আরও অনেকে।

গেল জুনের সংঘাতের তুলনায় বর্তমানে আরও বেশি ইসরায়েলিকে দীর্ঘ সময়ের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে হচ্ছে। অনেক সময় একটানা তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বাঙ্কারে অবস্থান করতে হচ্ছে। এ থেকেই বোঝা যায়, ইরানের লক্ষ্যভেদী হামলার তীব্রতা অতীতের তুলনায় অনেক বেশি।

নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মূল তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

তারিখ ও সময়স্থানক্ষেপণাস্ত্র সংখ্যাহতাহতের সংখ্যাউল্লেখযোগ্য তথ্য
রবিবার রাতপশ্চিম জেরুজালেমসীমিতপ্রথম আক্রমণ, নোটিশ পর্যবেক্ষণ
সোমবার সকালবেইত শেমেশ১০+৯+বাঙ্কারে আঘাত, আহত অনেক
সোমবার সকালঅন্যান্য শহর২০+অজানাবিস্ফোরণ ও প্রতিরক্ষা ধ্বনি

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের জবাবে চালানো হচ্ছে। ইরানি বাহিনী মূলত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন দেশের—কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং সৌদি আরব—উপর হামলা চালাচ্ছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং আশ্রয়কেন্দ্র সত্ত্বেও নাগরিকরা আতঙ্কিত। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি এ অঞ্চলের জন্য মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত পদক্ষেপ জোরদার না করলে ইসরায়েল ও পশ্চিম তীরের নাগরিকরা আরও দীর্ঘ সময় বিপদের মুখে থাকতে হবে।

এই হামলা এবং প্রতিরক্ষা কার্যক্রম ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার উপর গভীর প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।