ইরানকে বিভক্ত ও তেল লুটের ছক কষছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার (৯ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোরভাবে নিন্দা জানিয়ে বলেন, ওয়াশিংটনের লক্ষ্য মূলত ইরানকে ভাঙা এবং দেশের বিশাল তেল ও প্রাকৃতিক সম্পদ দখল করা। তিনি বলেন, “আমেরিকার নীল নকশা এখন স্পষ্ট; তারা ইরানের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করতে এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অবৈধভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।”

বাঘাই আরও মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্র কেবল অর্থনৈতিক স্বার্থেই নয়, বরং ইরানি জনগণের মানবিক মর্যাদা হরণ এবং দেশকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার উদ্দেশ্য নিয়েই আঞ্চলিক উত্তেজনা সৃষ্টিতে জড়িত। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ইরানের ভূখণ্ডকে খণ্ডিত করার বা সম্পদ লুটের যে কোনো চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাঘাইয়ের এই মন্তব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদী উত্তেজনার অংশ। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্ব মূলত তেল রপ্তানি, পরমাণু কর্মসূচি, এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রভাবকে কেন্দ্র করে। ২০২১ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা তেহরানের অর্থনীতি ও জনগণের জীবনযাত্রাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রধান বিষয়সমূহ

বিষয়বর্ণনা
অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাযুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ সালে জোটবদ্ধ নিষেধাজ্ঞা পুনঃপ্রবর্তন করে, তেল ও ব্যাংকিং খাত লক্ষ্যবস্তু।
আঞ্চলিক প্রভাবইরান ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেনে প্রভাব বিস্তার করে। যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি ধরে রাখে।
তেল ও প্রাকৃতিক সম্পদইরান মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম তেল রিজার্ভের দেশ, যা আন্তর্জাতিক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ।
সামরিক উত্তেজনাপ্যালেস্টিনে হামলা, গোলকধাঁধা কৌশল, এবং সামরিক ঘাঁটিতে উত্তেজনা বৃদ্ধির অভিযোগ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের সমৃদ্ধ তেল ও গ্যাস ভাণ্ডার আন্তর্জাতিক শক্তি খেলোয়াড়দের জন্য আকর্ষণীয় লক্ষ্য। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল প্রায়শই ‘কাবজি চাপ’ ও কূটনৈতিক একতরফা চাপের মাধ্যমে ইরানের নীতি প্রভাবিত করার উপর নির্ভরশীল। তবে ইরান বারবার উল্লেখ করেছে যে তারা আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক চাপের মুখে নিজেদের সার্বভৌমত্ব হরণ করতে রাজি নয়।

ইরানের ভূখণ্ডে যে কোনো ধরনের বিভাজন বা সম্পদ হরণের চেষ্টা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং এতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিপন্ন হবে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। এই পরিস্থিতিতে দু’দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও তেলের আন্তর্জাতিক বাজারকেও প্রভাবিত করতে পারে।