ইরাকে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে শনিবার এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এএফপির প্রতিবেদনে জানা যায়, হামলায় দূতাবাস প্রাঙ্গণে ক্ষতি হয়েছে এবং দূতাবাসের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সর্তকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, “একটি ড্রোন সরাসরি দূতাবাসে আঘাত হেনেছে।” নিরাপত্তা বাহিনীর অন্যান্য সূত্রও এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, বাগদাদের ইরান-সমর্থিত দুটি যোদ্ধা নিহত হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই ড্রোন হামলা ঘটে।

হামলার সময় দূতাবাস প্রাঙ্গণ থেকে ধোঁয়া উড়ে ওঠে। এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, দূতাবাসের ভেতরে থাকা একটি হেলিকপ্টার অবতরণস্থলে (হেলিপ্যাড) ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।

বাগদাদের ‘গ্রিন জোন’-এ অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের প্রাঙ্গণটি পূর্বেও ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীর রকেট ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে এসেছে। নিরাপত্তা জোনের এই প্রাঙ্গণকে ঘিরে অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, তবে এ ধরনের হামলা প্রায়ই রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অঞ্চলের সংকটকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

মার্কিন দূতাবাস শুক্রবার ইরাকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ‘লেভেল-৪’ সতর্কতা জারি করেছিল। সতর্কবার্তায় বলা হয়, “ইরান ও ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী অতীতে মার্কিন নাগরিক, স্বার্থ এবং অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও একই ধরনের হামলার ঝুঁকি রয়েছে।”

নিচের টেবিলটিতে হামলার প্রধান তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

বিষয়বিবরণ
অবস্থানবাগদাদ, ইরাক (গ্রিন জোন)
লক্ষ্যমার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণ
হামলার ধরনড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র
সময়শনিবার, ২০২৬
নিহতইরান-সমর্থিত ২ যোদ্ধা (হামলার আগে)
ক্ষতিহেলিপ্যাডে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত, ধোঁয়া ও সামান্য ক্ষতি
পূর্ব ইতিহাসইরানপন্থী গোষ্ঠীর রকেট ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু

এই হামলা ইরাকে মার্কিন নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং মার্কিন বাহিনী মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে আরও সহিংস পরিস্থিতি ডেকে আনতে পারে।

উল্লেখ্য, এ হামলার পরে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস থেকে কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন ইরাকের নিরাপত্তা পরিস্থিতির দিকে রাখা হয়েছে।

এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট যে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতি এখনও বহুল ঝুঁকিপূর্ণ এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়ছে।