ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের মানাডো শহরে অবস্থিত ‘ওয়ের্ধা দামাই’ নামের একটি বৃদ্ধাশ্রমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ১৬ জন প্রবীণের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩১ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে অগ্নিশিখা ছড়িয়ে পড়লে কয়েক ডজন প্রবীণ বাসিন্দা আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করেন। দমকল ও উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও অনেকেই আগুনের তীব্রতায় আটকা পড়ে প্রাণ হারান।
অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান জিমু রোটিনসুলু গণমাধ্যমকে জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দমকল বাহিনীর একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়, তবে আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় অধিকাংশ প্রবীণকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মৃতদের বেশিরভাগের মরদেহ কক্ষের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়। বয়সজনিত দুর্বলতার কারণে অনেকেই দ্রুত বের হতে না পারায় বড় সংখ্যক প্রাণহানি ঘটে।
ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি ও উদ্ধার পরিস্থিতি
নিম্নের টেবিলে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের তথ্য উপস্থাপন করা হলো—
| পরিস্থিতি | সংখ্যা |
|---|---|
| নিহত প্রবীণ | ১৬ জন |
| গুরুতর আহত | ৩ জন |
| সুস্থভাবে উদ্ধার | ১২ জন |
ঘটনার সময় বৃদ্ধনিবাসের অধিকাংশ বাসিন্দা নিজেদের কক্ষে বিশ্রামে ছিলেন। স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘মেট্রো টিভি’তে প্রচারিত ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, আগুন দ্রুত ভবনের বিভিন্ন অংশ গ্রাস করছে এবং স্থানীয় মানুষ দমকলকর্মীদের সঙ্গে মিলে প্রবীণদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে চেষ্টা করছেন। আহত তিনজনকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
প্রেক্ষাপট ও নিরাপত্তা প্রশ্ন
১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ায় ভবন নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার দুর্বলতা দীর্ঘদিনের আলোচ্য বিষয়। চলতি মাসের শুরুর দিকে রাজধানী জাকার্তার একটি সাততলা অফিস ভবনে আগুন লেগে ২২ জন নিহত হওয়ায় দেশজুড়ে নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে সমালোচনা বাড়ে। এর অল্প সময়ের মধ্যেই সুলাওয়েসির এই দুর্ঘটনা ওই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সরকার ঘটনা তদন্তে একটি টিম গঠন করেছে। আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া না গেলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। বৃদ্ধাশ্রমটিতে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ ব্যবস্থায় ঘাটতি ছিল কি না—তাও তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।
এই দুর্ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, প্রবীণ ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর আবাসস্থলে অগ্নি-সুরক্ষা ব্যবস্থা কতটা জরুরি এবং তা নিশ্চিত না হলে এর পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে।
