ইউনূস সরকার আমার বিদেশ সফর বন্ধ করল

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দাবি করেছেন যে, বিদেশে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তাঁর অংশগ্রহণ পরিকল্পিতভাবে সীমিত করা হয়েছিল। গত শুক্রবার রাতের কালের কণ্ঠকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “বিভিন্ন দেশের আমন্ত্রণ এলেও তখনকার সরকারের কর্তৃপক্ষ স্বেচ্ছামূলকভাবে আমাকে বিদেশ সফরে যেতে বাধা দিয়েছে।”

রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, অন্তত দুটি দেশের আমন্ত্রণের বিষয়ে তিনি নিশ্চিতভাবে জানতে পেরেছিলেন। এর মধ্যে একটি দেশ ছিল কসোভো। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কসোভোর একটি অ্যাসেম্বলিতে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে ‘কি-নোট পেপার’ উপস্থাপনের জন্য তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু সে সফরে তাকে যেতে দেওয়া হয়নি।

এরপর কাতারের আমির তাঁকে একটি আন্তর্জাতিক সামিটে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান, যেখানে রাষ্ট্রপতি ছাড়া অন্য কারও বক্তব্য রাখার সুযোগ ছিল না। তবে, রাষ্ট্রপতির দাবি অনুযায়ী, সেই আমন্ত্রণের প্রতিউত্তরে ভিন্ন কৌশল নেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, “পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি খসড়া চিঠি পাঠানো হয়, যেখানে লেখা ছিল রাষ্ট্রীয় জরুরি কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে আমি অংশ নিতে পারছি না। কিন্তু এই চিঠির খসড়া আগেভাগেই প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং আমাকে বাধ্য করা হয়েছিল তা অনুমোদন করতে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, চিঠি তৈরির আগে তাঁর সঙ্গে কোনো আলোচনা বা পরামর্শ করা হয়নি।

রাষ্ট্রপতি জানালেন, চিঠিটি হাতে পাওয়ার পরই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, আসলে কাতার থেকে আমন্ত্রণ এসেছিল এবং সেই আমন্ত্রণের জবাবে পূর্বপ্রস্তুত চিঠি তৈরি করা হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “সংবিধানের আলোকে একজন রাষ্ট্রপতি কি এমনভাবে ‘রাষ্ট্রীয় জরুরি কাজে’ এত ব্যস্ত হতে পারেন যে আন্তর্জাতিক সামিটে অংশ নিতে না পারেন?”

পরিস্থিতি বুঝে রাষ্ট্রপতি চিঠিতে একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন যুক্ত করে পাল্টা চিঠি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠান। সেখানে তিনি মন্ত্রণালয়ের আচরণকে শিষ্টাচারবহির্ভূত ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আখ্যায়িত করে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করার জন্য সতর্ক করেন। তবে তিনি কোনো জবাব পাননি।

রাষ্ট্রপতির অভিযোগের মূল বিষয় হলো, তাঁকে বিদেশে পাঠানো থেকে বিরত রাখার মূল উদ্দেশ্য ছিল তাঁর নাম ও পরিচয় আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে আড়াল করা। তিনি বলেন, “তাদের লক্ষ্য ছিল, রাষ্ট্রপতির নাম উচ্চারিত না হোক বা জনগণ আমাকে চিনুক না।”

শুধু বিদেশ সফরেই নয়, দেশের ভেতরও রাষ্ট্রপতিকে গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি দীর্ঘদিনের রেওয়াজ হলেও, তা অবরুদ্ধ রাখা হয়েছিল।

রাষ্ট্রপতির অনুমোদিত ও বাতিল করা আমন্ত্রণ (উদাহরণস্বরূপ)

দেশআমন্ত্রণের বছরঅনুষ্ঠানের ধরনঅংশগ্রহণ সম্ভব হয় নিমন্তব্য
কসোভো২০২৫অ্যাসেম্বলিতে কি-নোট পেপারহ্যাঁঅংশগ্রহণের সুযোগ বন্ধ ছিল
কাতার২০২৫আন্তর্জাতিক সামিটহ্যাঁআগেভাগেই খসড়া চিঠি তৈরি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষায়, এই ঘটনা তাঁর জন্য গভীর মানসিক কষ্টের কারণ হয়েছে। তিনি মনে করেন, এর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির মর্যাদা ও পরিচয়কে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।