ইউক্রেনের নৌবাহিনীর ড্রোন হামলায় কৃষ্ণসাগরে এমটি কায়রোস ট্যাংকার গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও জাহাজের চারজন বাংলাদেশি নাবিক জীবন রক্ষা পেয়েছেন। হামলা শুক্রবার বসফরাস প্রণালি অতিক্রমের সময় ঘটে।
নাবিকদের মধ্যে বাংলাদেশি প্রকৌশলী মাহফুজুল ইসলাম (নরসিংদী), আল আমিন, হাবিবুর রহমান ও আজগর হোসাইন ছিলেন। তারা বর্তমানে তুরস্কে চিকিৎসা শেষে হোটেলে অবস্থান করছেন।
মাহফুজুল ইসলাম জানান, প্রথম বিস্ফোরণ বিকেল সাড়ে চারটায় ঘটে। জাহাজ কেঁপে ওঠে এবং সবাই ব্রিজে ছুটে যান। “দ্বিতীয় ড্রোন হামলা জ্বালানি সংরক্ষণের স্থানে আঘাত করলে আগুন দাউদাউ করে ছড়িয়ে পড়ে। তখন আমাদের মনে হয়েছিল, লাইফবোট পুড়ে যাওয়ায় এবং প্রচণ্ড ঠান্ডায় সাগরে নামলে কেউ বেঁচে থাকতে পারবে না,” তিনি বলেন। জাহাজে তখন ১,১৬৩ টন জ্বালানি ছিল।
নাবিক আল আমিন জানিয়েছেন, ক্যাপ্টেনের নির্দেশে লাইফবোট নামানোর চেষ্টা করা হলেও আগুনে সেটি বিস্ফোরিত হয়। হাবিবুর রহমান বলেন, “সেখানে সবাই একে অপরের কাছে ক্ষমা চাইছিল। মনে হচ্ছিল, জীবনের অবসান ঘটেছে।” আজগর হোসাইন জানান, তারা তিনটি দ্রুতগামী নৌযানকে অনুসরণ করতে দেখলেও পরে বোঝা যায় এগুলো আসলে ড্রোন। পানিতে আগুন এবং প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে কোনো আশ্রয় নেওয়া সম্ভব হয়নি। শেষমেষ, তুরস্কের কোস্টগার্ড তাদের উদ্ধার করে।
বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জাহাজ মালিকপক্ষ ও তুরস্ক কর্তৃপক্ষ নাবিকদের সহায়তায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তারা উল্লেখ করেছেন, ২০২২ সালে ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজে হামলায় একজন বাংলাদেশি প্রকৌশলী নিহত হওয়ার ঘটনাও স্মরণ করা হয়েছে।
নিম্নে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো—
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| জাহাজ | এমটি কায়রোস ট্যাংকার |
| হামলার স্থান | কৃষ্ণসাগর, বসফরাস প্রণালি |
| হামলার সময় | শুক্রবার, বিকেল সাড়ে ৪টায় |
| হামলার ধরন | ইউক্রেনের নৌবাহিনীর ড্রোন হামলা |
| জাহাজে থাকা জ্বালানি | ১,১৬৩ টন |
| বাংলাদেশি নাবিক | মাহফুজুল ইসলাম, আল আমিন, হাবিবুর রহমান, আজগর হোসাইন |
| আহত/মৃত | কেউ নিহত হয়নি, চারজন চিকিৎসা শেষে হোটেলে অবস্থান করছেন |
| উদ্ধারকারী সংস্থা | তুরস্ক কোস্টগার্ড |
| অন্যান্য তথ্য | লাইফবোট পুড়ে গেছে; প্রচণ্ড ঠান্ডা ও পানিতে আগুন; আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তা নেওয়া হয়েছে |
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামুদ্রিক অঞ্চলে ড্রোন হামলার ভয়াবহতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে। বাংলাদেশি নাবিকদের দ্রুত উদ্ধার এবং মালিকপক্ষের সহায়তা প্রমাণ করেছে, যে এমন ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ত্বরিত সমন্বয় ও প্রস্তুতি জরুরি।
এই ঘটনায় আবারও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে, যাতে সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। বাংলাদেশি নাবিকদের সুরক্ষা ও জীবন রক্ষা সামুদ্রিক ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ, নিরাপদ ব্যবস্থা এবং বহির্বিশ্বের সহায়তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা স্পষ্ট করেছে।
