ইংল্যান্ডের সামনে বিশ্বরেকর্ডের চ্যালেঞ্জ, অস্ট্রেলিয়ার জয়ের দ্বারপ্রান্তে

চলমান অ্যাশেজ সিরিজে এখন পর্যন্ত একচেটিয়া দাপট দেখিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম দুই টেস্টেই সহজ জয়ে সিরিজে এগিয়ে থাকা স্বাগতিকরা অ্যাডিলেড টেস্টেও জয় থেকে আর মাত্র কয়েক ধাপ দূরে। তবে সব প্রতিকূলতার মাঝেও ইংল্যান্ডের জন্য এই ম্যাচে স্বস্তির জায়গা একটাই—এই সিরিজে প্রথমবারের মতো কোনো টেস্ট পাঁচ দিনে গড়িয়েছে।

অ্যাডিলেড ওভালে তৃতীয় টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে ইংল্যান্ড তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে সংগ্রহ করেছে ৬ উইকেটে ২০৭ রান। জয়ের জন্য শেষ দিনে তাদের প্রয়োজন আরও ২২৮ রান, হাতে মাত্র চারটি উইকেট। টেস্ট ইতিহাস বলছে, এমন লক্ষ্য তাড়া করে জেতা প্রায় অলৌকিক ঘটনার শামিল। অ্যাডিলেডে চতুর্থ ইনিংসে এত বড় রান তাড়া করে জয়ের কোনো নজির নেই, ফলে ইংল্যান্ডের সামনে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্বরেকর্ড গড়ার চ্যালেঞ্জ।

তবু আগের দুই ম্যাচের তুলনায় এটুকুই ইংল্যান্ডের অগ্রগতি। প্রথম টেস্টে মাত্র দুই দিনেই, দ্বিতীয় টেস্টে চার দিনের মাথায় হার মানতে হয়েছিল তাদের। সেখানে এবার পঞ্চম দিনের লড়াই—হার নিশ্চিত হলেও মনোবল ফেরানোর রসদ হতে পারে। অন্যদিকে, এই ম্যাচ জিতলেই বাকি দুই টেস্ট হাতে রেখেই অ্যাশেজ ও ঐতিহাসিক ছাইদানি নিজেদের করে নেবে অস্ট্রেলিয়া।

চতুর্থ দিনের শুরুতে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ২৭১ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে অস্ট্রেলিয়া। আগের দিনের অবিচ্ছিন্ন জুটি ট্রাভিস হেড ও অ্যালেক্স কেয়ারি আরও ৪০ রান যোগ করে ইংল্যান্ডের হতাশা বাড়ান। ট্রাভিস হেড খেলেন এক কথায় বিধ্বংসী ইনিংস—১৬টি চার ও ২টি ছক্কায় করেন ১৭০ রান। অন্যপ্রান্তে কেয়ারি ৬টি চারের সাহায্যে যোগ করেন গুরুত্বপূর্ণ ৭২ রান।

তবে নিচের সারির ব্যাটাররা বড় অবদান রাখতে ব্যর্থ হলে অস্ট্রেলিয়া শেষ ছয় উইকেট হারায় মাত্র ৩৮ রানে। তাদের ইনিংস থামে ৩৪৯ রানে। ইংল্যান্ডের হয়ে জশ টাং নেন সর্বোচ্চ ৪ উইকেট, আর ব্রাইডন কারস শিকার করেন ৩টি।

প্রথম ইনিংসে ৮৫ রানে পিছিয়ে থাকায় ইংল্যান্ডের সামনে দাঁড়ায় ৪৩৫ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য। শুরুটা ছিল হতাশাজনক—দ্বিতীয় ওভারেই বেন ডাকেটকে ফেরান অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা। কিছুক্ষণ পর অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের বলে আউট হন অলি পোপ।

তৃতীয় উইকেটে জ্যাক ক্রলি ও জো রুট ৭৮ রানের প্রতিরোধ গড়লেও নতুন স্পেলে ফিরে কামিন্সই ভাঙেন সেই জুটি। ৩৯ রান করা রুট কট বিহাইন্ড হন। এরপর হ্যারি ব্রুককে নিয়ে ৬৮ রানের জুটি গড়ে ইনিংস টেনে নেন ক্রলি। ১০২ বলে ফিফটি করে সেঞ্চুরির স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন তিনি।

ঠিক তখনই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন নাথান লায়ন। শুরুতে কিছুটা খরুচে হলেও পরের স্পেলে মাত্র ৫ ওভারে ৮ রান দিয়ে তুলে নেন ৩ উইকেট। ব্রুক বোল্ড হন রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে, বেন স্টোকস হারান অফ স্টাম্প। শেষ পর্যন্ত ক্রলিকেও স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন লায়ন—১৫১ বলে ৮৫ রানের ইনিংসের ইতি টানেন অ্যালেক্স কেয়ারির ক্ষিপ্রতায়।

দিনের শেষ ৯.৩ ওভারে জেমি স্মিথ ও উইল জ্যাকস কোনো বিপদ ঘটতে দেননি। কিন্তু বাস্তবতা পরিষ্কার—শেষ দিনে ইংল্যান্ডের ভরসা কেবল অলৌকিক কিছু, আর অস্ট্রেলিয়ার সামনে হাতছানি দিচ্ছে অ্যাশেজ নিশ্চিত করার সুবর্ণ সুযোগ।

গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান (চতুর্থ দিন শেষে) :

বিষয়তথ্য
অস্ট্রেলিয়া ২য় ইনিংস৩৪৯ রান
ট্রাভিস হেড১৭০ রান (১৬ চার, ২ ছক্কা)
অ্যালেক্স কেয়ারি৭২ রান
জশ টাং৪ উইকেট
ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস২০৭/৬
জয়ের জন্য প্রয়োজন২২৮ রান
হাতে উইকেট৪টি